3rdYear4thYearCommunication Policy and PlanningGlobal Media and International CommunicationMass CommunicationMedia Economics and ManagementMedia Socety and Politics

গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ । Media and Cultural Imperialism। cajbd.com

গণমাধ্যম এবং সংস্কৃতি সাম্রাজ্যবাদ Media and Cultural Imperialism

প্রত্যক্ষ সাম্রাজ্যবাদ শেষ হলেও পশ্চিম এক নতুন সাম্রাজ্য সৃষ্টি করেছে। সাম্রাজ্যবাদ টিকে আছে এমন কি প্রবলতর হয়ে টিকে আছে সংস্কৃতির ভিতর দিয়ে। এর প্রকাশ পশ্চিমা সংস্কৃতির ভিতর। আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তৃতীয়বিশ্ব পশ্চিমের সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে থাকে এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার হয়। পশ্চিমের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় আমাদের মনোজগতে এবং ক্রিয়াশীল হয় আমাদের আচরণে।

গণমাধ্যম তার নেটওয়ার্ক যতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত করতে পেরেছে ততদূর তার প্রভাব বিস্তার কে সক্রিয় করে তুলেছে। শুধু উন্নয়নশীল দেশ নয় এমন কি মধ্যপ্রাচ্য কি পাশ্চাত্য এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকায় কর্পোরেট গণমাধ্যম ফার্মগুলো সামগ্রিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দেশ প্রতিটি জাতির প্রতিটি সমাজের পরিপূর্ণ বিকাশের ও স্বাধীনতার মূল ভিত্তি যেখানে স্বকীয়তা , সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা গণমাধ্যম সেখানে গণযোগাযোগের ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করে সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্য বিস্তার করে চলেছে। কর্পোরেট গণমাধ্যম ফার্ম সাম্রাজ্যবাদী শাসকগোষ্ঠীর সাথে চুক্তিভিত্তিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে শ্রমভিত্তিক পুজিকে দুর্বল করে সংস্কৃতিভিত্তিক পুজিকে শক্তিশালী করে তুলছে।

সাম্রাজ্যবাদ

Know More…গণমাধ্যমের আলোচ্যসূচী নির্ধারণ তত্ত্ব । Agenda Setting Theory

গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ:

গণমাধ্যমের সাম্রাজ্যবাদ সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদেরই অংশ। সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ বিরাজ করে সংস্কৃতির সবক্ষেত্রে। গণমাধ্যমের সাম্রাজ্যবাদ বলতে বোঝায় গণমাধ্যমের ভিতর দিয়ে পশ্চিম বা উন্নত দেশগুলোর তৃতীয় বিশ্বের উপর যে আধিপত্য স্থাপন করে তাকে।

মিডিয়া সাম্রাজ্যবাদ ভৌগলিক সাম্রাজ্যবাদ পরবর্তী পর্যায়। সমরবাদী নীতিতে ভুখন্ড দখল করা যায়, ভূ-খন্ডের অন্তর্ভুক্ত জনগনের উপর প্রভাব, বল প্রয়োগ ও দমননীতি চালু রাখা যায়। গণমাধ্যম নেটওয়ার্কের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত বলায় সরাসরি জনগণের ঘরে পৌছে।
বিশ্ব গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাবে ইউরোপ, আমেরিকার সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা যেমন বিনিষ্ট হয়, এশিয়া- আফ্রিকার সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রে বিশ্ব গণমাধ্যম মুখ্য প্রভাব বিস্তারকারী শান্তিরূপে কাজ করছে।
অলিভার বয়েড ব্যারেটের মতে, সার্বিকভাবে বললে প্রত্যয়টি গণমাধ্যমের সাম্রাজ্যবাদ নির্দেশ করে সেই প্রক্রিয়াকে যার মাধ্যমে কোন দেশের গণমাধ্যমের মালিকানা. কাঠামো, বিতরন অথবা বিষয় অন্য কোন একটি বা একাধিক দেশের গণমাধ্যমের স্বার্থের দ্বারা বেশ খানিকটা নিয়ন্ত্রিত হয়।

বয়েড ব্যারেটের মতে, গণমাধ্যমের সাম্রাজ্যবাদ চারটি মৌল উপাদান আছে। যথা-

১. যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা
২. শিল্পগত আয়োজন। যার মাধ্যমে গণমাধ্যমের আয়োজন উৎপাদন হয়।
৩. গণমাধ্যমের মূল্যবোধের সমষ্টি
৪. গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু

যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা :

গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে ওঠার পেছনে প্রযুক্তি খুব বড় ভূমিকা পালন করে। উনবিংশ শতাব্দীতে তিনটি আন্তর্জাতিক News agency- AP, UPI, Reuters সারা পৃথিবীর সংবাদকে নিয়ন্ত্রন করত। কর্পোরেট গণমাধ্যম সংস্থাগুলো সংবাদ, বিজ্ঞাপণ, বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন এ্যাজেন্সি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জণগনের সাংস্কৃতিক চাহিদার যোগান দিয়ে চলছে। বিশ্বের গণযোগাযোগের উপর নিয়ন্ত্রন আনতে অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি ও সহায়ক যন্ত্রপাতি সরবরাহের গুরুত্ব প্রদান করছে। জনমত ও গণসম্পর্কের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে এবং জনমতকে গণমুখী করতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। কর্পোরেট গণমাধ্যমের বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের সাথে ফলপ্রসু ভূমিকা রাখছে উপনিবেশবাদী চেতনা।

শিল্পগত আয়োজন :

যেকোন যোগাযোগ ব্যবস্থার পিছনে কাজ করে প্রযুক্তি, সংগঠন, অর্থ। জেরেমী টান্সউল দেখিয়েছেন ১৯৩০ এর দশক থেকে হলিউডের চলচিত্রে তারকাব্যবস্থা তৈরী হয়ে যায়। এটি চলচিত্রকে সারাবিশ্বে জনপ্রিয় করে তোলে। এর পাশাপাশি গণমাধ্যমকে বাজারজাত করার জন্য একটি দক্ষ বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। পাশাপাশি মার্কিন মূলধন ক্রমশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ছায়াছবির নির্মাণের উৎস ছিল হলিউড প্রযুক্তির বিকাশ. পুজির বিকাশ, জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশ আর যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকাশে পুজিবাদের বিকাশই শুধু হচ্ছেনা। পুজিবাদের বিশ্বায়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। পুজিবাদী ব্যবস্থার বিশ্বায়নের ফলে আধিপত্য বিস্তারের অভিলাষ পূরণ হিসেবে সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতা বেড়ে চলছে।

গণমাধ্যমের মূল্যবোধের সমষ্টি :

Petter Goldings  দেখিয়েছেন, উন্নয়নশীল দেশের গণমাধ্যমের পেশাজীবীদেরও যে মূল্যবোধ তা উন্নত বিশ্বের পেশাগত মূল্যবোধের দ্বারা তৈরী।এক্ষেত্রে তিনটি প্রক্রিয়া কাজ করে যথা-

১. প্রাতিষ্ঠানিক স্থানান্তর
২. প্রশিক্ষণ
৩. শিক্ষা এবং পেশাগত ভাবাদর্শের বিকিরণ

যেমন- রেডিওর ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের তিনটি কাঠামো তৃতীয় বিশ্বে গণমাধ্যমের মূল্যবোধকে তৈরী করে দিয়েছে।

তার একটি হল বি.বি.সি যার মূল্যবোধ প্রসারিত হয়েছে বৃটিশ উপনিবেশগুলোতে।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে ফরাসি মডেল, যা ফরাসি মডেলগুলোতে অর্থাৎ ফরাসি উপনিবেশগুলোতে প্রভাব বিস্তার করেছে।

তৃতীয়টি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ব্যবস্থা যার প্রভাব এখন সর্বজনীন।

তৃতীয় বিশ্বে গণমাধ্যম পেশাজীবীরা তাদের প্রশিক্ষণ বা উচ্চতর শিক্ষা লাভ করে থাকেন ব্রিটেন, ফরাসি বা যুক্তরাষ্ট্রে। এসব দেশে গণমাধ্যমের মূল্যবোধ এই অনুশীলনের মাধ্যমে সঞ্চারিত হচ্ছে।

গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু :

গণমাধ্যমের সাম্রাজ্যবাদকে সবচেয়ে ভালভাবে চিহ্নিত করা যায় তার বিষয়বস্তুর মধ্যে গণমাধ্যমের জন্য তৃতীয়বিশ্বে প্রবেশ করে গ্রন্থ. রেকর্ড. ক্যাসেট. সংবাদ. ছায়াছবি. টিভি প্রোগ্রাম. কম্পিউটার ও ইন্টারনেট প্রবাহ উন্নত বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকে তৃতীয়বিশ্বের সব দেশে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করছে। Northenstren  D Veris দেখিয়েছেন যে ১৯৭৪ সালে ল্যাটিন আমেরিকায় আমদানিকৃত টিভি প্রোগ্রাম ছিল ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত। বর্তমানে উন্নত বিশ্ব থেকে টিভি প্রোগ্রাম তৃতীয় বিশ্বে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে খুব বাধা নেই। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি সারা বিশ্বে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করেছে।

গণমাধ্যম সাম্রাজ্যবাদের তাত্ত্বিক ভাবনা
গণমাধ্যমের সাম্রাজ্যবাদের বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয় পঞ্চাশের দশক থেকে। তখন থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছিল তা হচ্ছে অসম তথ্য প্রবাহ। সংবাদের জন্য তৃতীয়বিশ্ব নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল মুষ্টিমেয় কয়েকটি নিউজ এজেন্সির উপর। পশ্চিম থেকেই প্রধানত সংবাদ প্রবাহিত হত তৃতীয়বিশ্বে। তৃতীয়বিশ্বের অতি সামান্য খবর পৌঁছাত উন্নত বিশ্বে।

গণমাধ্যমের সাম্রাজ্যবাদ বিষয়টি অনেক বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ষাটের দশকে। ১৯৬৬ সালে ভিজার্ট টেলিভিশন নিয়ে, ওবাক ছায়াছবি এবং কাৎস ও ওয়েভেল রেডিও নিয়ে এ ধরনের গবেষণার সূত্রপাত হয়। ১৯৯৬ সালে Herbert Silar  গণমাধ্যমের সাম্রাজ্যবাদের উপর একটি সাধারণ তত্ত্ব তৈরী করেন। ১৯৭৩ সালে জেরেমী টান্সউল এর ঐতিহাসিক বিবরণ তুলে ধরেন।

তিরিশের দশকে এবং তার পওে জার্মানীর ফ্রাংর্ফুট ঘরানার বিমর্শ তত্ত্ব (critical theory) সংস্কৃতির একটি দিকের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল। থিওজেব আর্ডোনা. হার্বাট মারকুজ মনে করেন ধনতান্ত্রিক শ্রেণীর স্বার্থে সংস্কৃতিকে পণ্যে রূপান্তর করা হয়। সংস্কৃতিকে তৈরী এবং বিপনন করা হয় একটি সাধারণ মানদন্ডের ভিতর দিয়ে জনপ্রিয় সংস্কৃতি হিসাবে। সংস্কৃতি হয়ে পড়ে ভোগপণ্য।

গণমাধ্যম সাম্রাজ্যবাদের তত্ত্ব এ ও আরেকটি জ্ঞান তাত্ত্বিক উৎস ছিল প্রযুক্তি নির্ধারণবাদ। বিশেষ করে মার্শাল ম্যাকলুহান এবং হ্যারল্ড ইনিসের তত্ত্ব । শিলারের মতে সামরিক এবং শিল্পপতি ব্যবসায়ী স্বার্থের একটি সর্ম্পককে উৎস মনে করে তিনি গণমাধ্যমের প্রভাব সর্ম্পকে একটি নির্ধরণবাদী তত্ত¡ নির্মাণ করেন। শিলার তার তত্ত্ব এ দেখিয়েছেন. সামারিক এবং শিল্পপতি। এই সময় শিল্পতন্ত্র ক্রমশ যোগাযোগের প্রযুক্তির বিস্তার ঘটিয়েছে সামরিক প্রয়োজনে।তার মতে, স্নায়ুযুদ্ধ এবং উত্তর দক্ষিণের বিভাজনের প্রেক্ষিতে মার্কিন সামরিক যন্ত্রের প্রধান লক্ষ্যছিল বিশ্বের উপর তার প্রভাব বিস্তার করা। সামরিকভাবে এই আধিপত্য তৈরী করা হয়েছিল বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০ টি সামরিক ঘাঁটির মাধ্যমে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প-ব্যবসায়ী শীর্ষজনদেও কাছে তৃতীয়বিশ্বের বাজার দখল ছিল অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অত্যাবশ্যক। এভাবে তৈরী হয় দুটি গোষ্ঠীর সাধারণ স্বার্থ। এভাবে শিলার দেখালেন ১৯৬০ সাল থেকে টিভি প্রোগ্রাম এবং বিজ্ঞাপণের ক্ষেত্রে মার্কিন আধিপত্য স্থাপিত হয় এবং তা বিভিন্ন দেশের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে স্থানীয়ভাবে মার্কিন জনপ্রিয় সংস্কৃতি পুন:উৎপাদন করেছিল।

গণমাধ্যম সাম্রাজ্যবাদতত্তে¡ সমালোচনা

শিলারের তত্ত¡ যোগাযোগের মাধ্যমে বিশ্বের মার্কিনী করণকে এখন থেকে ৩০ বছররের বেশি আগে অনেক চমৎকারভাবে তুলে ধরেছিল। তবে শিলারের তত্ত¡ মার্কিন গণমাধ্যমের প্রভাবকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। কিন্তু জেরেমী টান্সউল দেখিয়েছেন যে, গণমাধ্যমের সাম্রাজ্যবাদ তৈরী হয়েছিল বৃটিশ উপনিবেশিকতার সময় থেকে। যেমন- (১৮৭০-১৯১৪) সাল পর্যন্ত লন্ডন ছিল বিশ্বব্যাপী টেলিগ্রাম যোগাযোগের কেন্দ্র। এই যোগাযোগকে কেন্দ্র কওে রয়টার্স সারা বিশ্বে সংবাদ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করত।

টান্সউল দেখিয়েছেন, যোগাযোগের বাণিজ্যিক রূপটি তৈরী হয়েছিল ১৮৯০ এর দশকে নিউইয়র্ক থেকে। এখানেই বিস্তার লাভ করেছিল বিজ্ঞাপণ সংস্থা এবং নিউইয়র্ক ও হলিউডে গড়ে উঠেছিল চলচিত্র কেন্দ্র।

সাম্প্রতিককালে গণমাধ্যমের সাম্রাজ্যবাদ
সাম্প্রতিককালে গণমাধ্যম ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক বিণ্যাসে যে পরিবর্তন আসছে তা গণমাধ্যমের সাম্রাজ্যবাদের তত্ত¡কে শক্তিশালী করেছে। অনেকে এখন লক্ষ্য করেছেন বিশ্বের কেন্দ্রে গণমাধ্যমের সেক্টরে যৌথক্রিয়া বাড়ছে। এই যৌথ ক্রিয়ার চারটি রূপ রয়েছে। যথা-

১. সফটওয়্যারের যৌথ ক্রিয়া: একজন অভিনেতা/অভিনেত্রী বা লেখককে তারকারূপে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নানা মাধ্যমে বই, ম্যাগাজিনে, ছবি, সাক্ষাৎকার, টি-শার্ট বিজ্ঞাপণ প্রভৃতি দিয়ে একই স্বার্থে সম্বানিত করা হচ্ছে।

২. সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারকে সন্নিহিত করা: সনি কোম্পানির রেকর্ড কোম্পানি বা চলচিত্র স্টুডিও ক্রয় করা এর উদাহরণ।

৩. মাল্টিমিডিয়ার বিস্তার: শব্দ. লেখা এবং ছবিকে ডিজিটাল আকাওে রূপান্তরিত করা হচ্ছে।

৪. নতুন বিতরণ ব্যবস্থা: চলচিত্র বিতরণের জন্য ফাইবার অপটিক ব্যবহার বা কেবল টেলিভিশন এর প্রকৃত উদাহরণ।

সাম্প্রতিককালে গণমাধ্যম ব্যবস্থার পরিবর্তনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হচ্ছে মুষ্টিমেয় বহুজাতিক সংস্থার হাতে গণমাধ্যমের কেন্দ্রীভবন এবং সাইবার সমাজের বিকাশ। বর্তমানে ৬ টি বহুজাতিক সংস্থা মার্কিন গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে। যথা-

১. টাইম ওয়ার্নার- এ.ও.এল : টাইম ম্যাগাজিন সি এন এন টেলিভিশন এবং আমেরিকান অব লাইন নামের ইন্টানেট প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি সম্মিলিত সংস্থা যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম সংস্থা।

২. ডিজনী : এই সংস্থার মালিকানায় রয়েছে এবিসি টিভি ও বিনোদন কেন্দ্র।

৩. বার্টেলম্যান : জার্মান বহুজাতিক সংস্থা যা র‌্যানডম হাউজ নামে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রকাশনা সংস্থার মালিক।

৪. ভায়কম :সিবিএস টিভি ও এম টিভি এর সমন্বয়ে গঠিত।

৫. নিউজ কর্পোরেশন : রুপাড মারডকের প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ২৫টি ম্যাগাজিন এবং কলিন্স নামক বিখ্যাত প্রকাশনা ও ফক্স ব্রডকাস্টিং এর অর্ধ মালিকানা।

৬. জেনারেল ইলেকট্রিক : এই প্রতিষ্ঠানটি NBC I CNBC নামক দুটি টিভি কোম্পানির মালিক এবং মাইক্রোসফটের সাথে যুক্ত।

এই বহুজাতিক সংস্থাগুলোর দাবি অপরিসীম। মাত্র ছয়টি রেকর্ড কোম্পানি বিশ্বব্যাপী রেকর্ড বিক্রির ৭০-৮০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সাতটি স্টুডিও বিশ্বব্যাপী চলচিত্রের উৎপাদন এবং বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করে

উপনিবেশ স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্রিটেন. ফ্রান্স. জার্মানি এবং পরবর্তীকালে আমেরিকা পারস্পরিকভাবে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। আজকের যুগে সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও সা¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠার উপনিবেশ স্থাপনের মতোই প্রতিযোগিতামূলক হয়ে পড়ে। বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো যেমন- টাইম ওয়ার্নার, ডিজনি. নিউজ কর্পোরেশন বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানির মতই বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর দখলদারিত্ব ও প্রভাব বিস্তারে তৎপরতা বাড়াতে থাকে। নিরেট উপনিবেশবাদের যুগ শেষ হলেও তরল উপনিবেশবাদ অব্যাহত থাকে গণমাধ্যম সাম্রাজ্যবাদর মধ্যে দিয়ে।

Comment here