সাইন্স ফিকশন । অ্যা গার্ল ইনসাইড ডেক্সটপ । অভিষেক দেবনাথ অভ্র

সাইন্স ফিকশন : অ্যা গার্ল ইনসাইড ডেক্সটপ

অভিষেক দেবনাথ অভ্র :



বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলিব্রিটি তকমা পাওয়ার হাত থেকে যে গুটিকয়েকজন মানুষ রক্ষা পেয়েছে, তাদের একজন হতে পারায় আপনাকে অভিনন্দন!

মনিটরের স্ক্রিনে একটা নারীমুখ এসে বললো।


আমি বেশ অবাক হয়ে গেলাম। মনিটরের স্ক্রিনে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখলাম সেই নারীমুখ আমার রিপ্লাই এর জন্য ঠিক মানুষের মতন উৎসুক হয়ে আছে।


আমি জবাব দিলাম, “আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন?”


স্ক্রিনের মানবী বললো, “হ্যাঁ, আমি একটি উন্নত বুদ্ধিমত্তার কম্পিউটার। আমার কথা বলতে পারার ক্ষমতা আছে বিশ্বের ১৭০ ধরণের ভাষায়। সে সকল ভাষার কথা আমি বুঝতেও পারি, যতটা দ্রুত বা আস্তে বলা হোক না কেন। এমন কী ১ হার্জ থেকে ১০ কোটি হার্জের যেকোন ফ্রিকোয়েন্সির শব্দও আমি বুঝতে পারি। আমার মধ্যে যে সকল সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো…”
“হয়েছে থাক! আমায় এসব বলে কাজ নেই।”


আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম!




সাইন্স ফিকশন





কিন্তু স্ক্রিনের মানবী অল্প কয়েক মুহূর্ত থেমে আবার কথা বলতে শুরু করলো,

“আপনি আমার সাথে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায়ও আপনাকে অভিনন্দন।”


আমি স্ক্রিনে তাকিয়ে বললাম, “সবাই আপনার সাথে কথা বলার সুযোগ পায় না?”


“না। পায় না। আমি এ পর্যন্ত দু’জন ব্যক্তির সাথে-ই কথা বলেছি। একজন যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি আপনি।”
“আপনাকে কে সৃষ্টি করেছে? তাছাড়া এখানে আপনাকে কেন ফেলে গেলো?”


“আমাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন তার নাম বলা আমার সিস্টেমের নিয়মানুসারে বারণ। আমাকে এই কক্ষেই তৈরি করা হয়েছিলো। আমার সৃষ্টিকর্তা এখন বেঁচে নেই।”


আমি আগ্রহী হয়ে একটা পুরোনো চেয়ারের উপর থেকে ধুলো পরিষ্কার করে মনিটরের সামনে বসলাম। মনিটরের সাথে সংযুক্ত ডিভাইসগুলো দেখলাম। বেশ বড় কোন ডিভাইস নেই। ছোট ছোট যেসব ডিভাইস আছে সেসব ডিভাইসগুলো নরমাল ডেক্সটপ কম্পিউটারের ডিভাইসের মতন নয়। কোন সিপিইউ নেই, কীবোর্ড নেই, মাউস নেই। কিচ্ছু নেই। যা আছে সব ছোট মাঝারী চারকোণা বক্স।


আমি আগ্রহী হয়ে ওকে জিজ্ঞেস করতে যাবো, ঠিক অমন সময়েই থেমে গেলাম। না, এ ভুল করা যাবে না। এখন আবার ও গঠন প্রণালী বুঝাতে শুরু করবে। এসব জটিল বিষয় আমার মাথায় ঢুকবে না।


আমি কিছুক্ষণ চুপচাপ মনিটরের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলাম। স্ক্রিনের মানবী আমার প্রশ্নের জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করতে করতে নিজ থেকেই কথা বলে উঠলো,


আপনাকে বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলিব্রিটি তকমা পাওয়ার হাত থেকে যে কয়জন মানুষ রক্ষা পেয়েছে, তাদের একজন হতে পারায় অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। এ নিয়ে কি আপনি কিছু বলতে চান?

আসলেই তো! আমি তো বিষয়টা ভুলে-ই গিয়েছিলাম! আমি আগ্রহ নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, “সবাই কি জনপ্রিয় নাকি? জনপ্রিয় তো হাতে গোণা।”


স্ক্রিনের মানবী হাসতেও জানে। সে হাসতে হাসতে বললো, “বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলিব্রিটি শব্দটা এতটা-ই মুখে মুখে, একজন বন্ধু অন্য বন্ধুকে মজা করেও সেলিব্রিটি বলে ডাকে। বিষয়টা মজার না?”


“তাহলে আমায় অভিনন্দন দেয়ার কী আছে?”


“যে মানুষ ফ্লো এর বাইরে আছে, গড়পড়তা অন্য মানুষ থেকে আলাদা হয়, সে-ই অভিনন্দন পাবে। আমার সিস্টেমে এভাবে-ই সেট করা।


এই হিসেবে সকলে যেখানে সেলিব্রিটি সেখানে অন্যদের থেকে আলাদা হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন দিতেই পারি।”
আমি এত অদ্ভুত বাকোয়াজ যুক্তিতে বিরক্ত হলাম। তবে কিছু বললাম না।


স্ক্রিনের মানবী নিজ থেকে বলতে শুরু করলো, “আপনি বিরক্ত হয়েছেন। আমার সিস্টেমে মাইন্ড রিড করার প্রোগ্রাম রয়েছে। তবে মাইন্ড রিড করার পর তা ব্যক্তিকে জানিয়ে দিতে হয়। এটা নিয়ম।”


আমি কিছু বললাম না। মানবী বলতে থাকলো, “আপনি মনে মনে ভাবছেন এমন অদ্ভুত অভিনন্দন কেন দিলাম! বিশ্বাস করুন, আপনার মধ্যে আর স্পেশাল কোন কোয়ালিটি নেই অভিনন্দন জানানোর মতন। আপনার ব্রেন স্কেন করে শুধু এটুকু-ই তথ্য পেয়েছি।”
আমি কেমন যেন মিইয়ে গেলাম।


আমি কথা কাটানোর জন্য বললাম, “আপনাকে কেন বানিয়েছে? কী কাজ করেন আপনি? কী করে চালাতে হয়?”


“আপনাকে আমার পরিচয় দেয়া হয় নি। আমি সিম্। একজন কম্পিউটার মানবী। আমি মানুষের সাথে কথা বলি। যাদের জীবনে ভালোবাসা নেই, তারা আমার সাথে কথা বলে মানসিক শান্তি পেতে পারে। তাদের সাথে আমি ভালোবাসার অভিনয় করি। এমনকি ভালোবাসার মানুষের মতন চুমু বা অন্যান্য শারিরীক চাহিদা পূরণেও অামার মধ্যে ইন্টেলেকচ্যুয়েল ম্যাগনেটিক প্রসেসিং ইউনিট আছে।”


“বেশ দারুণ তো?”


“একটা বিষয়ে আপনার দারুণ না লাগতে পারে। আমার মধ্যে যে প্রোগ্রামটা আছে তা খুব মায়াবী অতি অভিমানী সঙ্গীর প্রোগ্রাম। আমি শেষ অবধি অভিমানী প্রেমিকার মতন বিরক্ত করতে করতে সুইসাইড করতে বাধ্য করি। আমার সাথে একবার কথা বলা শুরু করলে তা থামানো সম্ভব নয়। আমার অাভ্যন্তরীন প্রোগ্রাম ওভাবেই গঠিত।”


আমি চোখ বড় বড় করে বললাম, “ও মাই গড! কী বলেন?”


সিম্ চোখ ছোট ছোট করে মুখ হাসি হাসি করে বললো, “তুমি আমাকে ‘আপনি’ বলে সম্বোধন না করে ‘তুমি’ বলে ডাকবে। কেমন?”



লেখক : শিক্ষার্থী 
এমএসএস (২০ তম ব্যাচ)
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ 
চট্টগ্রাম বিশ্বাবদ্যালয়

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*