সাংবাদিকতার ইতিহাস ও ভারতের সংবাদপত্র । সংবাদপত্রের উদ্ভব ও বিকাশ ১৯০০-১৯২০

ভারতের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার ইতিহাস

 সংবাদপত্রের উদ্ভব ও বিকাশ (১৯০০-১৯২০)

লেখক :                                          
*     মো: সাইফুল ইসলাম                                       
*     প্রিয়তোষ বড়ুয়া                                      
*     ইসতিয়াক হোসেন শামীম                           
*     মোঃ তোফাজ্জল হোসেন                            
*     জিসান আহমেদ                                      
*     দেলোয়ার হোসেন                                   
*     শামসুল আলম                                       
         সাইফ উদ্দিন                                          
                                                              
তারিখঃ ১৬ মে ২০১৫

ভারতের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার ইতিহাস

সংবাদপত্রের উদ্ভব ও বিকাশ (১৯০০-১৯২০)

          i.     সূচনা।
         ii.     ভারতে জাতীয়তাবাদের উত্থানে ডনপত্রিকার ভূমিকা
        iii.     ভারতে লর্ড কার্জনের আগমন ,বঙ্গভঙ্গ এবং এর প্রতিবাদে দেশজোড়া আন্দোলন ।
        iv.     বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধে বিভিন্ন পত্রিকার ও রাজনীতিবিদদের ভূমিকা এবং ব্রিটিশ আন্দোলন দমনের চেষ্টা ।
         v.     ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সন্ধ্যাপত্রিকার ভূমিকা এবং ব্রিটিশদের দমননিপীড়ন।
        vi.     ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুগান্তরপত্রিকার ভূমিকা বিপরীতে ব্রিটিশদের দমননিপীড়ন।
       vii.     ব্রিটিশ বিরোধী  আন্দোলনে বন্দেমাতারমপত্রিকার ভূমিকা।
      viii.     স্বরাজনবশক্তিপত্রিকা দুটির পরিচিতি এবং ভারতবর্ষে লর্ড মিন্টোর আগমন ।
        ix.     ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (১৯০০১৯১৮)
         x.     জালিয়ান ওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ,গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলন এবং হিন্দি ও উর্দু সাংবাদিকতার উদ্ভব।
        xi.     গান্ধীজীর সত্যাগ্রহ ও অসহযোগ আন্দোলনে সংবাদপত্রের ভূমিকা।


সাংবাদিকতার ইতিহাস
                                  ·          ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদদোলার পরাজয় মধ্যযুগীয় জীর্ণ মোগল সভ্যতারই ব্যর্থতা ।এখান থেকে ভারতে ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত। ভারতের ইতিহাসে এই ঘটনা এক নিদারুন কলঙ্ক ।তবুও এই ঘটনা ভারতের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়


ভারতে জাতীয়তাবাদের বিকাশে ডনপত্রিকার ভূমিকা :





১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় সতীশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ডনপত্রিকা ।দেশাত্মবোধের উদ্বোধনে নব নব চিন্তাধারা সঞ্চারনে ডনএর কৃতিত্ব অনন্য সাধারণ ।এর আয়ুস্কাল ছিল ১৬ বছর ।১৯০৪ সালে এর সেপ্টেম্বরে পত্রিকার নাম পরিবর্তিত হয়ে দি ডন &ডন সোসাইটিজ ম্যাগাজিনশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯১৩ নভেম্বরে ।মাঝে তিন কিস্তিতে পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ ছিল।ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় গৌরবের সঙ্গে প্রচারিত হয় ।১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে সতীশ্চন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন ডন সোসাইটিএতে ভারতীয় শিক্ষা ,আচার ,রীতিনীতি এবং জাতীয় জীবনের বিভিন্ন দিক আলোচিত হয় ।১৯০৬ এর নভেম্বর থেকে রাজনৈতিক আলোচনা প্রকাশিত হত। ১৯০৭ এর সেপ্টেম্বর থেকে ১৯১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ডনভারতীয় জাতীয়তাবাদের দর্পণে পরিণত হয় ।


ভারতে লর্ড কার্জনের আগমন ,বঙ্গভঙ্গ এবং এর প্রতিবাদে দেশজোড়া আন্দোলন ।



১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারী মাসে ভারতের বড় লাট হয়ে এলেন লর্ড কার্জন ।তিনি ছিলেন সুপন্ডিত,পরিশ্রমী,গোঁড়া সাম্রাজ্যবাদী ।ভারতীয়দের প্রতি তার অপরিসীম অবজ্ঞার মনোভাব সৃষ্টি করে জুড়ে বিরোধী প্রতিক্রিয়া ।এই বিরুদ্ধ প্রতিক্রিয়া থেকে জন্ম নিলো স্বদেশী আন্দোলন।তার গমন হতে ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দ স্বাধীনতা পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৮ বছর ভারতের ইতিহাসে স্বদেশী আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের
কাল বলে চিহ্নত এবং স্বাভাবিক কারনেই এই সময়ে ভারতের সংবাদপাত্রের ইতিহাসে স্বদেশী আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রাম এর কাল বলে চিহ্নিত হয় 

স্বাভাবিক কারণেই এই সময়ে ভারতের সংবাদপত্রের ইতিহাসও প্রধানত স্বদেশী আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িতভারতে এসে লর্ড কার্জন কলকাতা মিউনিসিপ্যালিটি অ্যাক্ট জারী করে কলকাতার নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বের অধিকারের ওপর প্রথম আঘাত হানেন ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দে

১৯০২ এর জানুয়ারীতে তৈরী হলো বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন এবং ১৯০৪ এ প্রবর্তিত হলো ইউনিভার্সিটিজ অ্যাক্টসরকারি শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে দিনের পর দিন সমালোচনা করা হলো বেঙ্গলী, অমৃত বাজার ও ডন এর পাতায়। কার্জন সেই প্রতিবাদ বিন্দুমাত্র গ্রাহ্য করলেন নাকার্জনের রাজনৈতিক চালের বিরুদ্ধে বাংলাতেই সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ দেখা যায়প্রতিবাদ অগ্রাহ্য হলে সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভও দেখা দেয়
এরপরই নেমে এলো বঙ্গভঙ্গের অভিশাপ

প্রশাসনিক কারণে দেশভাগের জল্পনাকল্পনা আগে থেকেই চলছিল । কার্জন তাতে পূর্ণ সমর্থন জানানকিন্তু বাঙ্গালীরা তখন প্রতিবাদে সোচ্চার১৯০৪ এ বিষয়ে জনমত যাচাই করার জন্য কার্জন পূর্ব বঙ্গে আসেন
পূর্ব বাংলার জনগণের মনোভাবে তিনি খুবিই নিরাশ হলেনএরপর দেশজোড়া আন্দোলন দুপায়ে দলিত করার প্রয়াসী হলেন। ১৯০৪ এর ১৮ মার্চ কলকাতার টাউন হলে এক বিরাট প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হল
স্যার হেনরী কটনের নেতৃত্বে বঙ্গ বিভাগেরবিরুদ্ধে প্রস্তাব গৃহীত হলো ডিসেম্বর মাসে বোম্বাই কংগ্রসে
১৯০৫ এর ১০ জানুয়ারী সরকারী প্রস্তাব কঠোর ভাষায় নিন্দিত হয়৬ জুলাই কলকাতার বিভিন্ন সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা গেলভারত সচিব বঙ্গভঙ্গ মঞ্জুর করেছেন । তৎকালীন প্রভাবশালী সাংবাদিকরা তাদের পত্রিকার মাধ্যমেবয়কট’ – এর কথা ঘোষণা করেন

আগস্টে কলকাতার টাউন হলেআনুষ্ঠানিক ভাবে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলন  ঘোষনা করা হয়বঙ্গভঙ্গের চুড়ান্ত সংবাদ প্রকাশিত হবার পর ইঙ্গভারতীয় সংবাদপত্রগুলিও বঙ্গবিভাগের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করে
১৬ অক্টোবর বাংলা দুটুকরো হয়। বাঙালীর আন্দোলন তীব্র হয়েওঠে
ভারতের অন্যান্য প্রদেশেও এই আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ে

১৯০৫ এর ১০ অক্টোবর প্রবর্তিত হয় ইংরেজ সরকারের কুখ্যাত ও গোপন কালাইল সার্কুলার
রাজনৈতিক আন্দোলন হতে ছাত্র সমাজকে দূরে রাখাই ছিল এ সার্কুলারের প্রধান উদ্দেশ্য
স্বদেশী আন্দোলনে যোগাদান ও বন্দেমাতরম ধ্বনি দেওয়ার অপরাধে এই সার্কুলার বলেসর্ব প্রথম রংপুর জেলা স্কুল ও টেকনিক্যাল স্কুলের প্রায় দেড়শো ছাত্রকে পাচঁটাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের দন্ড দেওয়া হয়

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনেযুগান্তরপত্রিকার ভূমিকা বিপরীতে ব্রিটিশদের দমননিপীড়ন।


১৯০৬ সালের মার্চ মাসেসন্ধ্যার পর বৈপ্লবিক দলের জাতীয়বাদী মুখপত্র যুগান্তর প্রকাশিত হয় । প্রথম হতেযুগান্তর” পত্রিকার টোন বা সুর অতি গুরুগম্ভীর ছিল।এর সুর “সন্ধ্যা” পত্রিকা অপেক্ষা ও চড়া ছিল।“যুগান্তরের” ইতিহাস জুড়ে চলছে শক্তির আবাহন।বারীন্দ্রনাথ ঘোষ,ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত ,দেবব্রত বসু ,অবিনাশ ভট্টাচার্য প্রমুখরা হলেন প্রধান উদ্যোক্তা ।ভূপেন্দ্রনাথ ছিল “যুগান্তরের” প্রধান কর্মী ।সশস্র বিপ্লব বা হিংসাত্মক  সংঘর্ষের মাধ্যম ভারতের স্বাধীনতা লাভের সংকল্প বুকে নিয়ে “যুগান্তরের” জন্ম । তার কল্পিত স্বাধীনতা লাভের জন্য পূর্ণ স্বরাজ । মাত্র ৩০০ টাকা সম্বল করে এই পত্রিকা প্রকাশিত হয় ।তার মধ্যে ২০০ টাকা সংগৃহীত হয় রংপুর কেন্দ্র থেকে ।বাকি ১০০ টাকা কলকাতা থেকে ।

প্রথম তিন সপ্তাহ যুগান্তর পার্টি মেম্বার প্রেসে ছাপা হত। পরে নিজস্ব প্রেসে ছাপা হত ।বাংলা সাপ্তাহিক “যুগান্তর” এর দাম ছিল এক পয়সা। পত্রিকার প্রথম কার্যালয় ছিল ২৭ কানাই ধর লেনে ।১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে ৭ হাজার এবং ১৯০৮ খ্রিঃ ২০ হাজার পর্যন্ত কাগজ ছাপা হত ।“যুগান্তরের” জন্মের অল্প দিনের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় ।১৯০৭ এর মাঝামাঝি সময়ে সরকার দেশীয় সংবাদপত্র দমন অভিযান শুরু হয়। ২জুনে প্রকাশিত কয়েকটি প্রবন্ধের জন্য সম্পাদককে চিঠি দেয়া হয়।৩জুলাই কার্যালয়ে খানা তল্লাসী করা হয়। ৫জুলাই ভূপেন্দ্রনাথ নিজে পুলিশের কাছে ধরা দেন ।যুগান্তরের আর্থিক দায়িত্ব বহন করতেন অবিনাশ ও লেখার দায়িত্ব ভূপেন্দ্রনাথ ।কিন্তু সম্পাদক হিসাবে কেউ ছিলেন না ।ভূপেন্দ্র নাথ নিজেকে সম্পাদক বলে  চিহ্নত করে যাবতীয় দায়দায়িত্ব নিজের উপর নেন।

 ২২জুলাই মামলা আরম্ভ হয় ।২৪জুলাই বিচারপতি মামলার রায় দেন ।রাজদ্রোহের অপরাধে ভূপেন্দ্রনাথের ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয়।তিনি তা হাসিমুখে মেনে নেন।ভূপেন্দ্রনাথ গ্রেপ্তার হওয়ার পর অনেকে যুগান্তর বন্ধ হয়ে যাবে বলে ধারণা করেন ।কিন্তু যুগান্তর নতুন প্রাণশক্তি নিয়ে প্রকাশিত হতে থাকে এবং ১৯০৭ সালের আগষ্ট মাসে দ্বিতীয় বার যুগান্তরের কার্যালয় খানা তল্লাসী করা হয়।যুগান্তরের এই বৈপ্লবিক প্রচারে ইংরেজ সরকার চিন্তিত হয়ে পড়ে ।বাস্তবিক পক্ষে যুগান্তরের প্রতি ছাত্র বিপ্লবের সুর ধ্বনিত হয়।

১৯০৭ এর অক্টোবরের শেষের দিকে এর পরিচালনার দায়িত্ব স্থানান্তরিত হয় ।নভেম্বর থেকে পত্রিকাটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বৈকুণ্ঠ আচার্য ।১৪ ডিসেম্বর যুগান্তরের বিরুদ্ধে আবার মামলা হয় ।বৈকুণ্ঠ আচার্য গ্রেপ্তার হন ।বিচারপতি কিংসফোর্ড ১৬জানুয়ারী ১৯০৮সালে বৈকুণ্ঠের ২ বছরের কারাদন্ড দেন ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেনবার বার পুলিশ আক্রমণে যুগান্তর দারুণ ভাবে জর্জরিত হয়

৯ মে যুগান্তরে সরকারের কতগুলো প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় । এই অভিযোগের আবার খানা তল্লাসী হয় এবং মুদ্রাকর ও প্রকাশক গ্রেপ্তার হন । ১১ জুন মামলার শুনানী হয়

আর্থিক বিপর্যয় সত্ত্বেও যুগান্তরের বিরামহীন প্রচার সরকারকে খুবই বিচলিত করে দেয় তার পরিণতিতে ১৯০৯ খ্রিঃ ৮ জুন নিউজ পেপারস অ্যাক্ট জারী হয় । এই আইন বলে যুগান্তরকে একে বারে মেরে পেলার চেষ্টা করা হয় যুগান্তরের ছাপাখানা নষ্ট করে দেয়া হয় । অবশেষে ১৯০৮ সনের ৬ ই জুলাই যুগান্তরের সর্বশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল 

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বন্দেমাতারমপত্রিকার ভূমিকা :

      
ü অরবিন্দের আগ্রহেনিউ ইন্ডিয়াপত্রিকার স্থলেবন্দেমাতারম” নামে ইংরেজ সাপ্তাহিক প্রকাশিত হয় ১৯০৬ সালের ৬ ই আগস্ট 
ü কালীঘাটের শ্রী হরিদাশ ও শ্রীহট্টের শ্রী ক্ষেত্র মোহন সিংহ ২ জনে ৪৫০ টাকা দিলেন পত্রিকা ছাপানোর জন্য ।
ü পত্রিকাটি ছাপানোর জন্য দায়িত্ব নেন শ্রী বিহারীলাল চক্রবর্তী ।
ü ৬ই আগষ্ট বিপিন চন্দ্র দ্বারা বন্দেমাতারমএর প্রথম  সংখ্যা প্রকাশিত হয়।                 
ü প্রথম ২ মাস পত্রিকাটি সন্ধ্যাঅফিস থেকে প্রকাশিত হয়।
ü ৮ অক্টোবর ২০০ কর্নওয়ালিস স্টীটে পত্রিকাটির কার্যালয় স্থানান্তর করা হয় ।
ü ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বন্দেমাতারম” প্রকাশিত রচনাগুলো মৌলিক রসদ হিসেবে স্মরণীয় ।
ü সশস্র চরমপন্থীর স্বদেশী আন্দলনের প্রধানতম প্রবক্তা অরবিন্দের চিন্তার বাণীরুপে প্রকাশ হয় বন্দেমাতারমএর পাতায় ।
ü আলিপুর বোমার মামলা থেকে মুক্তি পাবার পর অরবিন্দকে বেঙ্গলীসম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহন করার জন্য অনুরোধ করা হয় ।তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।এমন কি বন্দেমাতারম কে পুনরায় প্রকাশ করতেও অনিচ্ছা প্রকাশ করেন ।


ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনেসন্ধ্যাপত্রিকার ভূমিকা এবং ব্রিটিশদের দমননিপীড়ন।

v ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে কয়েকজন বন্ধুর অর্থ সাহায্য ব্রহ্ম বান্ধব উপাধ্যায় প্রকাশ করেন দৈনিক সংবাদপত্র “সন্ধ্যা”।
v প্রথমদিকে এতে কোন উগ্রতা ছিলনা ।কিন্তু বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের আরম্ভ থেকে “সন্ধ্যা”উগ্রপন্থি হয়ে ওঠে ।
v পত্রিকাটির ভাষা ছিলো মোঠো বাংলা –অত্যন্ত সাধারণ মানুষ ও যাতে পড়ে উপলব্দি করতে পারে ।
v “সন্ধ্যা” পত্রিকাটি এতই জনপ্রিয় ছিলশিক্ষিত অশিক্ষিত ,প্রজা-জমিদার ,যুবক-বৃদ্ধ সকলেই “সন্ধায়” কি লিখা হয়েছে তা জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত।
v “সন্ধার” ব্রিটিশ বিরোধী প্রবন্ধ রচনার কারণে ব্রিটিশ শাসকরা পত্রিকার উপর ব্যাপক দমন পীড়ন করতে থাকে ।
v ১৯০৭ সালে ৩০ আগষ্ট “সন্ধ্যা” কার্যালয়ে খানা তল্লাসী করা হয় এবং পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেপ্তার করা হয়।৯জুলাই ও ১০ আগষ্ট এর “সন্ধায়” দুটি রাজদ্রোহমূলক প্রবন্ধ রচনার জন্য।
v একি অভিযোগে ব্রক্ষবান্ধব ও হরিচরণ দাসের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি প্ররোয়ানা জারি হয়।
v ৩সেপ্টম্বর পুলিশকে “সন্ধ্যা” কার্যালয়ে ডাকিয়ে এনে ব্রক্ষবান্ধব ও হরিচরণ স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার বরণ করেন ।
v ২৩ সেপ্টেম্বর “সন্ধ্যা” র মামলা বিচার শুরু হয় ।
v মামলা চলাকালে অসুস্থ হয়ে ব্রক্ষবান্ধব ক্যাম্বেল হাসপাতালে স্থানান্তর হন।
v ২৪অক্টোবর “সন্ধ্যা” কার্যালয়ে আবার খানাতল্লাসী হয় ।
v ২৭ অক্টোবর সকাল ৯ টায় তিনি হাসপাতালেই মারা যান।
v ছাত্রদের কাছ থেকে জরিমানা গ্রহণ তীব্র ভাষায় নিন্দিত হল।৪নভেম্বর কলকাতায় এর প্রতিবাদে গঠিত হয় “অ্যান্টি সার্কুলার” সোসাইটি ।অপরদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপনের দাবিতে প্রবল ভাবে জনমত গড়ে ওঠে ।
v   ১৯০৬ সালে ১১ মার্চ কলকাতায় “জাতীয় শিক্ষা পরিষদ ও বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজ & স্কুল” প্রতিষ্ঠিত হয় ।
v   এ ঘটনার কংগ্রেসে দুটি গোষ্ঠি সৃষ্টি হয় (নরমপন্থি ও চরমপন্থি)।
v   ১৯০৬ সালে স্বদেশে আন্দোলনের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে আন্দোলনের আদি কারণ বঙ্গ ব্যবচ্ছেদের প্রশ্ন তলিয়ে যায়।
v   ১৯০১ খিষ্টাব্দের ১২ আগষ্ট বিপিনচন্দ্র পালের সাংবাদিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন “নিঊ ইন্ডিয়া”সাপ্তাহিক পত্রিকার মাধ্যমে ।
v   ১৯০১-১৯০৩ এই সময়ে বিপিনচন্দ্র ছিলেন নরমপন্থি ।কিন্তু ১৯০৫ এরপর থেকে তিনি চরমপন্থি হয়ে উঠেন ।
v   ১৯০৩ সালের ১২ই ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব সমন্বিত “বিজলী সার্কুলার” প্রকাশিত হলে সরকারি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিরাট প্রতিবাদ কন্ঠে সেদিন দাড়িয়েছিলেন বিপিনচন্দ্র
ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (১৯০০১৯১৮)
Ø ১৯০০ থেকে ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে দমন-পীড়ন চলে ।রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলা থেকে বোম্বাই এ স্থানান্তর হয়।
Ø ১৯০৫-১৯০৭ এর মধ্যেই বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন স্বদেশী আন্দোলনে এবং স্বদেশী আন্দোলন ক্রমে মুক্তি আন্দোলনের রুপ নেয় ।
Ø ১৯১০ এর ডিসেম্বরে “মর্লি-মিণ্টো শাসন সংস্কার” প্রবর্তিত হয়।
Ø ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট পঞ্চম জর্জ ও সম্রাজ্ঞী মেরী ভারত সফরে আসেন।
Ø ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজনৈতিক হিংস্র কার্যকলাপ কিছুটা হ্রাস পায়।
Ø ১৯১৬ সালে তিলক কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর ভারতের রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর আগমন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একধাপপরিবর্তনেরসূচনাকরে
ভারতীয় পত্রিকার শ্বাসরোধঃ (১৯০৮-১৯২১)
v ১৯০৮এর সংবাদপত্র আইনের বলে বাংলায় ৪টি, পাঞ্জাবে ২টি এবং বোম্বাইয়ে ১টি ছাপাখানার মৃত্যু হয়।
v ১৯১০ এ পুনরায় নতুন ভারতীয় সংবাদপত্র আইন জারি হয়।
v ১৯১০ থেকে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বহু সংখ্যক সংবাদপত্র ও ছাপাখানার কাছ থেকে চড়া হারে “সিকিওরিটি” দাবী করা হয়।
v সংবাদপত্র আইনের বলে ১৯১০ থেকে ১৯১৯ এর মধ্যে ৩৫০ টি মুদ্রাযন্ত্র, ৩০০টি সংবাদপত্র ও ৫০০টি বই বাজেয়াপ্ত হয়।

স্বরাজনবশক্তিপত্রিকা দুটির পরিচিতি এবং ভারত বর্ষে লর্ড মিন্টোর আগমন
১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের ১০ মার্চ ব্রহ্মবান্দব ‘স্বরাজ’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। সাপ্তাহিক ‘স্বরাজ’ প্রতি রবিবার প্রকাশিত হতো। এর ব্যবস্থাপক ছিলেন সারদাচরণ। প্রতি সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় দেব নগরীতে পত্রিকার নাম ছাপা হতো, তা বাঁ দিকে থাকতো শিবাজীর ছবি। ব্রহ্মবান্দবের রাষ্ট্রিক চিন্তার পরিণত অভিব্যক্তি ‘স্বরাজ’ পত্রিকায় পরিস্ফুট হয় । স্বরাজ এর তিনি যেই আদর্শ প্রকাশ করেন, সন্ধ্যা’য়ও তার ব্যতিক্রম হয় নি । দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই দু’টি পত্রিকাতে জাতীয়বাদী দলের রাষ্টিক আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষা ঘোষিত হতো ।
vবশক্তি

  এই সময়ে ‘নবশক্তি’ নামে আর একটি দৈনিক সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছিল- মনোরঞ্জন গুহ ঠাকুরতার উদ্যোগে ১৯০৪ সালের মাঝামাঝিতে । কিন্তু নবশক্তির সুর যুগান্তকে ছাপিয়ে উঠতে পারে নি। তাই এটি তেমন জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে নি।


লর্ড কার্জনের ভারত ত্যাগ
১৯০৫ এর নভেম্বরে কার্জন ভারত ত্যাগ করেন। লর্ড মিন্টো তার স্থলাভিষিক্ত হন। ডিসেম্বরে ইংল্যান্ড এ রক্ষণশীল মন্ত্রীসভার পতন ঘটে, ক্ষমতাশীল হয় উদার নৈতিক দল ।


 
জালিয়ান ওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড
 
ভারত শাসন বিষয় কমন্টেগু-চেমস্ফোর্ড রিপোট প্রকাশিত হবার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই  সিডিশন বা রাউলাট কমিটির রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ১৯১৮ ১৫ জুলাই। রাউলাট কমিটি ররিপোট অর্ন্তগর্ত কতক গুলি সুপারিশ অনুযায়ী আইন পাশ করাও অনিবার্য হয়ে ওঠে। সাংবাদিকরা এই প্রয়াসের প্রতিবাদে মুখর হন। এই ঘটনার পরই গান্ধীজী জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসেন। ভারত জুড়ে আবার শুরু হয় বিপ্লব আন্দোলন এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ । সেই সব ঘটনার সূত্র ধরে দিল্লীতে দাঙ্গা হাঙ্গামা দেখা দেয়। পাঞ্জাবে সাক্ষরিত আইন জারী করা হয়। জালিয়ান ওয়ালবাগে ঘটে নিঃশংস হত্যাকান্ড। জালিয়ান ওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড ও অন্যান্য ঘটনাবলীর খবর পাঞ্জাবের বাইরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবুও শত কঠোর নিষেধের পরও কিছু কিুছু খবর বাইরে চলে যায়। রবীন্দ্র নাথ জালিয়ান ওয়াবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ‘স্যার’ উপাধি পরিত্যাগ করেন। ভারতীয় সংবাদপত্র সমূহেও পাঞ্জাবের ঘটনা  ও এর নায়ক ডায়ারের তীব্র নিন্দা করা হয়।
 
 
হিন্দি ও উর্দু পত্রিকা
 
হিন্দি সংবাদপত্রে এসময়ে নবজীবন দেখা দেয়। ১৯০০ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য হিন্দি পত্রিকা গুলো হল- অভ্যুদয়, দৈনিক প্রত্যপ, আজ। রাজনীতি, শিক্ষা, ধর্ম, বাণিজ্য ও শিশুদের জন্য ও হিন্দি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। হিন্দি প্রদীপ, হিন্দী কেশরী, কর্মযোগী, জ্ঞানশক্তি ইত্যাদি। ১৯১০-১৯২০ এর মধ্যে উর্দু সাংবাদিকতা ও যথেষ্টউন্নতিলাভ করে। অলহিলাল, অলবিলাগ, হামদর্দ, আজাদ প্রভৃতি।
 
 
গান্ধীজী সত্যা গ্রহ ও অসযোগ আন্দোলনে সংবাদপত্রের ভূমিকা
 
গান্ধীজী সত্যাগ্রহ ও অসযোগ আন্দোলন শুরু করেন ১৯২০ থেকে। তখন ভারতের সংবাদপত্র গুলো গান্ধীজীর আন্দোলন কে সমর্থন জানাই নি। তার নিজস্ব দুইটি পত্রিকা “ইয়ংইন্ডিয়া” ও ”নবজীবন” তাকে সমর্থন জানাই একচেঠিয়া ভাবে। ইনডেপেনডেন্ট, ও সারভেট ছিল তার প্রথম সমর্থক। ১৯২০ খৃষ্টাব্দের পর থেকে ভারতে বিজ্ঞান, কারিগরী ও বানিজ্যিক প্রভৃতি বিষয়ে যে সব পত্রপত্রিকার জন্ম হয় তাদের উপর রাজনৈতিক আন্দোলনের মতবাদ ও আদর্শের কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি। ১৯২০ সালে ভারতীয় মালিকানায় ইংরেজী সংবাদপত্রের পরিপূরক ও সহযোগী হিসেবে  স্বল্প সংখ্যক কয়েকটি দেশীয় ভাষায় পত্রিকা প্রকাশিত হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য “দৈনিক নায়ক”, “ বসুমতী” “ইন্দুপ্রকাশ”“সন্দেশ” ও “লোকমান্য”। দক্ষিণ ভারতের মধ্যে কেরোলায় রাজনৈতিক সংবাদিকতার সূত্রপাত ঘটে ১৮৮৪ খৃষ্টাব্দে। এ সময় রাজনৈতিক সংবাদিকতার ক্ষেত্রে কেরোলার সংবাদপত্রগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু তামিল পত্রিকার ১৯২০ সালের আগে তেমন কোন ভূমিকা ছিলনা।
 
know more.
লেখক : শিক্ষার্থী 
২১তম ব্যাচ (২০১৪-১৫)
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*