Home > 3rdYear > সফটওয়্যার বনাম ফার্মওয়্যার । Software vs Firmware

সফটওয়্যার বনাম ফার্মওয়্যার । Software vs Firmware

সফটওয়্যার  বনাম ফার্মওয়্যার

                                       Software vs Firmware
 
.মোবারক হোসেন আজাদ 
. প্রবীর ঘোষ 
. শাকিবুল হক 
. আমিনুল ইসলাম 
. এনামুল হক
 
সফটওয়্যার  Software :
সফটওয়্যার বনাম ফার্মওয়্যার আলোচনার প্রথম বিষয় হলো সফটওয়্যার সমস্যা সমাধান বা কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কম্পিউটারের ভাষায় ধারাবাহিকভাবে সাজানো নির্দেশমালাকে প্রোগ্রাম
(
Program) বলে। প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রাম সমষ্টি যা কম্পিউটারের হার্ডও্যার ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে হার্ডওয়্যারকে কার্যক্ষম করে তাকেই সফটওয়্যার  বলে।সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার অর্থহীন। সফটওয়্যার ব্যবহারকারী ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।
 
কম্পিউটারের কার্য সম্পাদনের ভাষা ও আমাদের ভাষা এক নয়। বস্তুত কম্পিউটারে প্রোগ্রাম লেখার জন্য অনেক কৃত্রিম ভাষার উদ্ভব হয়েছে । যেমন সি, প্যাসকেল , জাভা, কোবল, বেসিক ইত্যাদি।
 
 
সফটওয়্যার এবং ফার্মওয়্যার Software vs Firmware
 
 

সফটওয়্যারের প্রকারভেদ Types of software :

 
বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সফটওয়্যারে প্রকারভেদ করা যেতে পারে । কাজের প্রকৃতি ও ফাংশন অনুসারে কম্পিউটারের সফটওয়্যার কে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা যায়যথা
 
১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software)
২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার  বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার (Application Software) ।
 
 
 
সিস্টেম সফটওয়্যার System Software :
সিস্টেম সফটওয়্যার  হচ্ছে কম্পিউটারের একটি অবিচ্ছেদ অংশ । এই সফটওয়্যার কম্পিউটারের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে কাজের সমন্বয় রক্ষা করে ব্যবহারিক প্রোগ্রাম নির্বাহের জন্য কম্পিউটারে সামর্থ্যকে সার্থকভাবে নিয়োজিত রাখে । বর্তমানে প্রচলিত সকল সিস্টেম সফটওয়্যারে প্রধানত তিনটি অংশ রয়েছে । যথা
 
১. সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (System Management Program)
২. সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম (System Support Program)
৩. সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম( System Development Program)
 
 
সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম System Management Program:
এটি দিয়ে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার,  সফটওয়্যার, ডেটা এবং নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম নিম্নলিখিত ইউনিট নিয়ে গঠিত। যথা
১. অপারেটিং সিস্টেম,
২. নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট ও
৩. ডিভাইস ড্রাইভার প্রোগ্রাম।
 
 Know More.. 
ধর্ষণের পিছনে দায়ী পর্ন
সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম System Support Program:
সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম দিয়ে কম্পিউটার ব্যবহারকারী সার্ভিস প্রোগ্রাম, নিরাপত্তা প্রদানের প্রোগ্রাম এবং কাজের হিসাব-নিকাশ ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতে পারে। সিস্টেম সাপোর্ট প্রোগ্রাম নিম্নলিখিত প্রোগ্রামগুলি নিয়ে গঠিত। যথা
 
১. সিস্টেম ইউটিলিটি প্রোগ্রাম,
২. সিস্টেম পার্ফর্মেন্স মনিটর প্রোগ্রাম ও
৩. সিস্টেম সিকিউরিটি মনিটর প্রোগ্রাম।
 
 
সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম System Development Program:
ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রোগ্রাম উন্নয়নের জন্য সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামকে নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা যায়। যথা
 
১. প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেটর,
২. প্রোগ্রামিং এডিটর এবং টুলস
৩. কম্পিউটার এইডেড  সফটওয়্যার ইঞ্জিয়ারিং টুলস।
 
 
অ্যাপ্লিকেশন  সফটওয়্যার Application Software:
ব্যবহারিক সমস্যা সমাধান বা ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলা হয়। অ্যাপ্লিকেশন  সফটওয়্যার দুই ভাগে বিভক্ত। যথা
 
১. সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম (Normal Application Program) ও
২. অ্যাপ্লিকেশন স্পেসিফিক বা ব্যবহার সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম (Application Specific Programs) ।
 

 

 
সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম Normal Application Program
সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের সাহায্যে ব্যবহারকারী প্রাত্যাহিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ কাজগুলো যেমন ওয়েব ব্রাউজ, ই-মেইল , ওয়ার্ড প্রসেসিং , স্প্রেডশীট প্রোগ্রাম , ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, গ্রাফিক্স এবং ডেস্কটপ পাব্লিশিং ইত্যাদি সম্পন্ন করতে পারেন।
কিছু উল্লেখযোগ্য সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম হচ্ছে-
  •  সফটওয়্যার স্যুইট এমএস অফিস, লোটাস স্মার্ট স্যুইট, কোরেল ওয়ার্ড পারফেক্ট অফিস ইত্যাদি।
  •  ওয়েব ব্রাউজার ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, গুগল ক্রোম, মজিলা ফায়ারফক্স, নেটস্কেপ কমিউনিকেটর ইত্যাদি।
  •  ইমেইল ইন্টারনেট মেইল, ইউডোরা প্রো ইত্যাদি।
  • ডেস্কটপ পাবলিশিং পেজ মেকার, পাবলিশার ইত্যাদি।
 
 
অ্যাপ্লিকেশন স্পেসিফিক প্রোগ্রাম Application Specific Programs:
কোনো বিশেষ সুনির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট প্রোগ্রামকে অ্যাপ্লিকেশন স্পেসিফিক প্রোগ্রাম বলে। উদাহরণ স্বরূপ , একাউন্টিং এর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের একাউন্টিং  সফটওয়্যার , সেলস ম্যানেজমেন্ট, ইলেক্ট্রনিক কমার্স , ইনভেন্টরি কন্ট্রোল ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন সফটওয়্যার 
 
 
ফার্মওয়্যার Firmware:
সফটওয়্যার বনাম ফার্মওয়্যার আলোচনার প্রথম বিষয় হলো ফার্মওয়্যার Firmware
কম্পিউটার তৈরি করার সময় এটির মেমোরিতে যে সকল প্রোগ্রামসমূহ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে দেয়া হয় তাকে ফার্মওয়্যার(Firmware) বা মনিটর প্রোগ্রাম বলে। এ সকল প্রোগ্রাম আমরা পরিবর্তন করতে পারি না। এ সকল প্রোগ্রামের আউটপুট কেবল পর্যায়ক্রমে মনিটরে প্রদর্শিত হয়। যেমন – রমে (ROM) সংরক্ষিত প্রোগ্রামসমূহ। 
কম্পিউটারে স্থায়ীভাবে রাখা দরকার সেইসব নির্দেশের তালিকা এবং ডেটাগুলোকে কম্পিউটার প্রস্তুতকারক কোম্পানি কম্পিউটার তৈরির সময় কম্পিউটারের সেমি কন্ডাক্টর রমে (ROM) স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করেন। এই অত্যাবশ্যকীয় ডেটাগুলো এবং কার্যনির্দেশের তালিকাগুলো কম্পিউটার সুইচ অন করা মাত্রই কার্যকরী হয়।
 
 সফটওয়্যার এবং ফার্মওয়ারের মধ্যে প্রধান পার্থক্য
সফটওয়্যার এবং ফার্মওয়ারের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে কম্পিউটার ব্যবহারকারী  সফটওয়্যার কে সহজে মুছতে পারে কিন্তু ফার্মওয়ারকে সহজে মুছতে পারে না। তবে ব্যবহার করতে পারে। অবশ্য অনেক কম্পিউটার বিজ্ঞানী ফার্মওয়ারকে শুধু অত্যাবশ্যকীয় ডেটা (Data)এবং কার্য নির্দেশের তালিকাকে বোঝাতে চান না। তাঁরা চান, ডেটা এবং কার্য নির্দেশের তালিকাগুলো যে হার্ডওয়ারের মধ্যে স্থাপন বা সেটআপ এবং সংরক্ষণ করা হয়েছে ঐ সব ডেটা ও কার্যনির্দেশগুলো এবং হার্ডওয়ারগুলোর মিলিত নামকে ফার্মওয়্যার বলা হয়। 
উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, ROM BIOS (Read Only Memory Basic Input Output System) এর মধ্যে যে ডেটা এবং নির্দেশগুলো থাকে তা ফার্মওয়্যার।
 
কম্পিউটার ছাড়াও কিছু কিছু মাইক্রোপ্রসেসর ভিত্তিক সিস্টেম আছে যেখানে ফার্মওয়ার ব্যবহৃত ব্যবহৃত হয় । এমন, মোবাইল ফোন, ডিভিডি প্লেয়ার, ভিসিআর, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ইত্যাদি। 
 
এ ছিল সফটওয়্যার এবং ফার্মওয়্যার এর মধ্যকার ভিন্নতা সম্পর্কিত ধারণা ।
 
 
লেখক : শিক্ষার্থী
২১ তম ব্যাচ(২০১-১৫)
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share Now