ম্যাকলুহানের ইকোলজি তত্ত্বের চার যুগ

মো: সাইফুল ইসলাম:

ম্যাকলুহানের ইকোলজি তত্ত্বের চার যুগ

 
ম্যাকলুহানের ইকোলজি : ম্যাকলুহান বিশ্বাস করতেন যে, তিনটি আবিস্কার বিশ্বকে সম্পূর্ণ রূপে বদলে দিয়েছে। এ আবিস্কার গুলো হল বর্ণমালা, ছাপাখানা, এবং টেলিগ্রাফ। এ প্রযুক্তি গুলোর আবিস্কারের পর বিশ্ব একযুগ থেকে অন্য যুগে চলে গেছে। বিশ্বের এ পরিবর্তন কে বোঝাতে ম্যাকলুহান মানব ইতিহাস কে চারটি যুগে বিভক্ত করেছন। এগুলো হল –

 
ম্যাকলুহানের ইকোলজি





1.Tribal Age
2. Literature 
Age
3. Print 
Age
4. Electronic 
Age




Know More…..

গণমাধ্যমের চার তত্ত্ব । নরমাটিভ থিউরি





1.Tribal Age 


ম্যাকলুহান মনব ইতিহাসের প্রথম যুগ হিসেবে 
Tribal Age বা নিরক্ষর গোষ্ঠী জীবন কে বর্ণনা করেছেন। এ যুগে মানুষ তাদের ইন্দ্রিয় দ্বারা সকল কাজ পরিচালনা করতো। এ যুগকে শব্দের যুগ বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। এ যুগে মানুষ স্পর্শ, স্বাদ,শ্রবণ ও গন্ধের দ্বারা বিচার বিবেচনা করতো। এটি দৃশ্যত কল্পনা শক্তি থেকে অনেক দূরের বিষয়। এসময় শ্রবণের গুরুত্ব ই বেশি ছিল। এ সময় সবকিছু তাৎক্ষণিক ও বর্তমান ছিল।


2. Literature Age


দ্বিতীয় যুগ হল 
Literature Age । এ যুগে প্রতীকের আবিস্কার হয়। এ যুগে চোখ ইন্দ্রিয় কে পরিচালিত করতো। এ যুগকে দৃশ্যত বা ভিজুয়াল যুগও বলা হয়। এ যুগের ব্যাপ্তি হোমারের পরবর্তী দু হাজার বছর পর্যন্ত।। এ যুগে মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে প্রতীক।


3. Print Age


প্রতীক আবিস্কারের পর 
Print Age বা মুদ্রণ যুগের সূচনা হয়। এ যুগে টাইপের জন্ম হয়। মার্শাল ম্যাকলুহান এর মতে এ যুগের সূচনা ১৫০০ সাল থেকে। এর ব্যপ্তি ছিল ১৯০০ সাল পর্যন্ত। মুদ্রণের আবিস্কারের পর মানুষের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এবং মানুষ এক ইন্দ্রিয়ের উপর নির্ভর হয়ে পড়ে। এর ফলে মানুষের দলবদ্ধ জীবন ভেঙ্গে যায়। মানুষ বিভিন্ন শ্রেণি তে বিভক্ত হয়ে পড়ে।ম্যাকলুহান একে বি-গোত্রীকরণ নামে অভিহিত করেছেন।


4. Electronic Age


১৯০০ সালের পর থেকে 
Electronic  যুগের সূচনা। এ যুগে মানুষের এক ইন্দ্রিয় নির্ভরতার অবসান ঘটে। মানুষ আবার পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের যুগে ফরে যায়। এ যুগে ব্যাপকভাবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এ যুগে বিশ্বে সময় ও স্থানগত দূরত্ব কমে গেছে। বিশ্বের মানুষ আবার গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনে ফিরে গেছে। ম্যাকলুহান একে পুনরায় গোত্রীকরণ বলে অভিহিত করেছেন। পুনঃ গোত্রীকরণের মাধ্যমে সারা বিশ্ব এক বৈশ্বিক গ্রাম এ পরিণত হয়েছে।


Reference:

গণযোগাযোগ তত্ত্ব ও প্রযোগ – সাইফুল সামিন/ শাওন্তী হায়দার



লেখক : শিক্ষার্থী
৪র্থ বর্ষ( ২১ তম ব্যাচ )
যোগাযোগওসাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*