পাবলিসিটি মডেল । PUBLICITY MODEL । Public Relation । cajbd.com

পাবলিসিটি মডেল PUBLICITY MODEL

সময়কালঃ
এটি ১৮৫০ সাল থেকে ১৯০০ সালের দিকের একটি মডেল। এর মূল প্রবক্তা কে তা জানা যায় নি। তবে পি টি বারনাম, একজন পথিকৃৎ, এ মডেল নিয়ে আলচনা করেছেন।

মডেলের ব্যাখ্যাঃ
জনসংযোগের প্রথম পর্যায়ে এ মডেলটি প্রচলিত ছিল। মূলত এটা একটি প্রভাবনকারী মডেল। এ মডেলের সাহায্যে জনগণকে প্রভাবিত করার কাজটি করা হয়। এ মডেলে জনসংযোগ কর্মীর প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল সংগঠনের চিন্তাধারাকে ছড়িয়ে দেয়া। এক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়েই অসম্পূর্ণ, বিকৃত, অর্ধসত্য তথ্য দেয়া হতো। তখন প্রতিষ্ঠানগুলোর একমাত্র লক্ষ্যই ছিল প্রতিষ্ঠানকে প্রোমোট করা। তাই তারা জনগনের মতামত যাচাই না করেই তথ্য প্রকাশ করতো। সংগঠন জনগনের কথা ভাবতো না। যার ফলে যোগাযোগ হতো একমুখী। নিচে চিত্রের সাহায্যে এ মডেলের যোগাযোগ প্রক্রিয়া দেখানো হল।

Figure 1 The Publicity Model

চিত্রে মডেলের একমুখী কার্যক্রম প্রকাশ করা হয়েছে। এতে যোগাযোগ এবং সকল কর্মকাণ্ড, উৎস থেকে শুরু করে গ্রাহকের কাছে পৌছায়। কিন্তু গ্রাহকের কাছ থেকে কোন তথ্য উৎসের কাছে যায় না। এতে শুধু বলার গুরুত্ব ছিল, শুনার কোন গুরুত্ব ছিল না।

ব্যবহার ক্ষেত্রঃ
1 খেলাধুলার (ধারাভাষ্যের বিবরণী)
2 ছবি বা (নাটকের প্রচারনা)
3 কোন প্রতিষ্ঠানের পন্যের যে সব প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। যেমন- মোবাইল কোম্পানি গুলোর অফার।
4 বাংলাদেশের পর্যটন কর্পোরেশন
5 Press Information Department

মডেলের সিমাবদ্ধতাঃ

1 এ মডেলে ফলাবর্তনকে কোন গুরুত্ব দেয়া হয় নি।
2 আধুনিক জনসংযোগ কর্মকাণ্ডের অন্যতম উপাদান গবেষণা ও মূল্যায়নকে এ মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি।
3 অডিয়েন্স গবেষণা এ মডেলে তেমন একটা গুরুত্ব পায় নি।
4 এতে শুধু জনগন বার্তা গ্রহণ করছে কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্যই ছোট ছোট কিছু জরিপ চালানো হয়।
5 এতে বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রত্যেককেই একই মানসিকতার বলে ধরে নেয়া হয়।

পাবলিক ইনফরমেশন মডেল/ PUBLIC INFORMATION MODEL

সময়কালঃ

জনতথ্য মডেলের আবির্ভাব হয় উনবিংশ শতকের গোঁড়ার দিকে ১৯০০- ১৯২০ সালের মধ্যে। এই সমউএ মডেলটিতে সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রাখেন আইভি লি। তাকে আধুনিক জনসংযোগের জনক বলা হয়।

মডেলের ব্যাখাঃ
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে জনসংযোগ পদ্ধতিও পরিবর্তিত হয়। এ মডেলটি পাবলিসিটি মডেলেরই মত। তবে পার্থক্য হল প্রেস এজেন্ট/ পাবলিসিটি মডেলে জনগণকে অর্ধসত্য, বিকৃত তথ্য দেয়া হতো, কিন্তু এ মডেলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ বা তথ্য প্রচার করা হয়। এ মডেলের সাহায্যে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন যে তথ্য প্রচার করতো তা সত্য ও অবিকৃত থাকতো। তবে দুটো মডেলেরই যোগাযোগ প্রক্রিয়া উৎস কেন্দ্রিক। অর্থাৎ, জনগণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি অনুপস্থিত। এই মডেলটির যোগাযোগ প্রক্রিয়া আগের মডেলের মতই।

এ দুটি মডেল গবেষণা পরিচালনা করা হয়। যথাঃ

1 পাঠযোগ্যতাঃ

এ গবেষণার লক্ষ্য ছিল বার্তা পাঠকের কাছে বোধগম্য হচ্ছে কিনা বা তাদের বোধগম্যতার মাত্রানুসারে বার্তা দেয়া হচ্ছে কিনা।

1 পাঠসংক্রান্তঃ

এর লক্ষ্য ছিল,যে বার্তা দেয়া হচ্ছে তা পাঠক গ্রহণ করছে কিনা অর্থাৎ তার প্রতি পাঠকের আগ্রহ আছে কিনা তা বিশ্লেষণ করা। উদাহরণঃ বাংলাদেশ পারমানবিক শক্তি কমিশন বা গ্রামীন ব্যাংক

ব্যবহারক্ষেত্রঃ
2 Government Office
3 Non- Profitable Organization
4 Business Sector

সীমাবদ্ধতাঃ
1 এতেও ফলাবর্তনকে গুরুত্ব দেয়া হয় নি।
2 এ মডেলেও গবেষণার বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব পায় নি।
3 এখানে প্রভাবিত করণের উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে। তবে প্রথমটার মূল উদ্দেশ্যই ছিল প্রভাবিতকরন।

দ্বিমুখী অপ্রতিসম মডেল/ TWO WAY ASYMMETRIC MODEL

সময়কালঃ
১৯২০ সালের দিকে এ মডেলটির আবির্ভাব হয়। তবে ১৯২৩ সালে Edward L. Bernays এঁকে আরও সমৃদ্ধ করেন।

মডেলের ব্যাখ্যাঃ
সমাজবিজ্ঞানের সর্বাধুনিক গবেষণালব্ধ ফলাফল ব্যবহার করে জনসংযোগের দ্বিমুখী অপ্রতিসম মডেলের ব্যবহারকারীরা এটাকে প্রকৃত প্রভাবিতকরণ মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।আগের মডেলগুলোর সাথে এই মডেলের তেমন কোন পার্থক্য নেই। তবে এই দ্বিমুখী অপ্রতিসম মডেলের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো অনেক বেশী বিজ্ঞান সম্মত। এ মডেল অনুসারে জনসংযোগ কর্মীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হল প্রতিষ্ঠানের ধ্যান ধারনা বা দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার জন্য অন্যকে প্রভাবিত করা।
এ মডেলে নতুন একটা বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটি হল ফলাবর্তন। নিচে মডেলের চিত্ররূপে দেখানো হল।

Feedback
চিত্রে দেখা যাচ্ছে মডেলটি দ্বিমুখী। অর্থাৎ বার্তা- উৎস থেকে গ্রাহকের কাছে যায়। আবার গ্রাহকের কাছ থেকে উৎসের কাছে যায়। এ ফলাবর্তনের ধারনাটি এসেছে সাইবানেটিক তত্ত্ব থেকে। এখানে মূলত ডেভিড কে বার্লোর যোগাযোগ মডেলকে অনুসরণ করা হয়েছে।এ মডেলে দুইটি গবেষণা হয়। যথাঃ

1 গঠনমূলকঃ

এ গবেষণার লক্ষ্য হল জনগণের চাহিদা জানা। জনসংযোগ কর্মীরা এ গবেষণার ফলাফলকে তাদের প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

2 মূল্যায়নধর্মী বা বিশ্লেষণঃ

এ গবেষণা সদ্য সমাপ্ত বা বর্তমানে চলমান কোন জনসংযোগের প্রচারণা মূল্যায়ন করার জন্য। উদাহরণঃ শিক্ষাবোর্ড, প্রাইভেট টিভি চ্যানেল।ব্যবহার ক্ষেত্রঃ
1 Competitive Business
2 Public Relation Firms

সীমাবদ্ধতাঃ
ফলাবর্তনের বিষয়টি উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এর যোগাযোগ কার্যকর অর্থে একমুখী। কারণ, এখানে যোগাযোগ প্রভাব এবং জনসংযোগ দুটোই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্যই ব্যবহৃত হয়।
এই মডেল ব্যবহারের সাহায্যে যতটা দৃঢ়তার সাথে ব্যক্তির মনোভাব ও আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়, ফলাবর্তন পাওয়ার পর সে অনুপাতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড ও মনোভাবের তেমন কোন পরিবর্তন হয় না।
এখানে ব্যবসার ক্ষেত্রে অন্যদেরকে খাটো করে দেখানো হয়, এজন্য তাকে অপ্রতিসম বলা হয়। যেমনঃ মোবাইল কোম্পানির বিজ্ঞাপনে।

দ্বিমুখী প্রতিসম মডেল/ TWO WAY SYMMETRIC MODEL

সময়কালঃ
বেশ কিছু দূরদর্শী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে জনসংযোগের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী প্রতিসম মডেলের প্রচলন ঘটে। ষাটের দশকের শেষভাগে এবং সত্তরের দশকের গোঁড়ার দিকে এ মডেলের ব্যবহার শুরু হয়। এ সময়ের আলোচিত ব্যক্তি হলেন Edward Bwenays.

ব্যাখাঃ
এ মডেলে জনসংযোগ কর্মীর ভূমিকার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। এর লক্ষ্য হল পারস্পরিক সমঝোতা আনয়ন। এ দ্বিমুখী প্রতসম মডেল জনসংযোগ কর্মসূচি মূল্যায়ন ও যোজনী সংক্রান্ত তত্ত্বের উপর ব্যপকভাবে নির্ভরশীল।এ মডেলে জনসংযোগ প্রচারণায় এক পাক্ষিক বিবৃতির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠান ও জনগণের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা নেয়া হয়। এতে করে প্রতিষ্ঠানের মনোভাবে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
দ্বিমুখী প্রতিসম মডেলের যোগাযোগ ধারণা বার্লো এর তত্ত্ব থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ মডেলের যোগাযোগ প্রক্রিয়াটি নিন্মরূপঃএই মডেলে দুটো গ্রুপ অর্থাৎ একটি প্রতিষ্ঠান ও জনগণের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার কথা বর্ণনা হয়েছে। এখানে যোগাযোগ দ্বিমুখী।এ মডেলে গঠনমূলক গবেষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জনগণের চিন্তা ভাবনা কী এবং জনগণের উপর প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কেমন সেটা জানার চেষ্টা করা হয়।

গঠনমূলক গবেষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ও জনগণের পারস্পরিক সমঝোতার মাত্রা নির্ধারণের জন্য মূল্যায়ন মূলক গবেষণা করা হয়।

উদাহরণঃ ডাচ বাংলা ব্যাংক।

একটি প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের সাথে যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং সেই যোগাযোগ অব্যাহতভাবে রক্ষা করে চলা।

জনসংযোগের এ লক্ষ্যই বলে দেয়, জনগনই হচ্ছে জনসংযোগের মুখ্য বিবেচ্য বিষয়। ইংরেজি Public Relations এই দ্বৈত শব্দে যেমন public শব্দটি রয়েছে তেমনি বাংলাতেও ‘জন সংযোগ’ শব্দটি স্থান পেয়েছে। জনগণকে মাথায় রেখেই নানান কর্মসূচি গ্রহণ করে একটি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ বিভাগ। স্বাভাবিকভাবেই এই জনগণকে খুব ভালভাবে জানতে হয় জনসংযোগ কর্মকর্তাদের।ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বিবেচনায় ‘জনগন’ কে পৃথক পৃথক পরিচয়ে চিহ্নিত করা যায়। যেমন- বয়স, পেশা,সামাজিক মর্যাদা, লিঙ্গ, সংস্থা, ভোক্তা, স্থানীয়, জাতীয়, ধর্মীয়, গ্রামীন, শহুরে ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে জনগণকে নানান পরিচয়ে শ্রেনীবদ্ধ করা যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে public কে সংজ্ঞায়িত করা বা শ্রেনী বিভক্ত করা খুব কঠিন। প্রায়শই এক শ্রেনীর মানুষ একই সঙ্গে অন্য এক বা একাধিক শ্রেণীতেও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বৈশিষ্ট্য ধারণ করে বলেই এই কাজটি কঠিন হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ইস্যুতে একই ‘পাবলিক’ ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে রূপান্তরিত হয়ে যায়।সহজাত জটিলতার দিকটি মাথায় রেখেই কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ এই ‘পাবলিক’ কে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন।

Moore ও Confield তাদের Public Relations: Principles, Cases, and Problems বইতে বলেন-

‘A group of people sharing a common interest’

PRSA (Public Relations Society of America) এর মতে,

‘Public relations helps an organization and its publics 
adapt mutually to each other. Public Relations broadly applies to organizations as a collective group, not just a business; and publics encompass the variety of different stakeholders’

Richard Reavey এর মতে,

PR and corporate communications is marketing, except, you’re selling an intangible to an audience with no interest.

Public Relations Associations এর সংজ্ঞা মতে

the art and social science of analyzing trends, predicting their consequences, counseling organizational leaders and implementing planned programs of action, which will serve both the organization and the public interest

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*