ডেপথ্ রিপোর্টিং কি

ডেপথ্ রিপোর্টিং 


খবরের প্রধান উদ্দেশ্য হল জনগণ কে ঘটনা সম্পর্কে জানানো। কিন্তু একটি ঘটনা কোনো বিষয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নয়। কারণ ঘটনার পেছনেও ঘটনা থাকে । তাই কোন ঘটনার সাদামাটা সংবাদটি দেওয়ার অর্থ হল তা সাধারণ রিপোর্টিং।কিন্তু ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা, সব ঘটনার একটা সামগ্রিক সম্মিলন এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা সম্বলিত রিপোর্টিং হচ্ছে ডেপথ্  রিপোর্টিং





একটি ঘটনাকে দুভাগে দেখা যায়। একটি হল সাধারণ চোখে দেখা এবং অন্যটি হল তলিয়ে দেখা। একটি হল খবরের উপরিতল অন্যটি ভেতরতল। উপরতলের উপর ভিত্তি করে যে রিপোর্ট তৈরি করা হয় তা হচ্ছে সারফেজ রিপোর্টিং আর খালি চোখে যতটুকু দেখা যায়,উপলব্ধি করা যায় তার চেয়ে আরো গভীরে গিয়ে ঘটনাকে বিশ্লেষণ করাই হল ডেপথ্রিপোর্টিং।


তথ্য হচ্ছে ডেপথ্ রিপোর্টিংয়ের হাতিয়ার। তবে চলমান তথ্যই হল ডেপথ্ রিপোর্টিংয়ের প্রধান হাতিয়ার।
ডেপথ রিপোর্টিংয়ের দ্বিতীয় হাতিয়ার হচ্ছে চলতি ঘটনা বা ঘটনাবলীর পটভূমি। চলতি ঘটনাবলীকে পুরোনো ঘটনাবলীর আলোকে তুলে ধরতে হয়। পুরোনো তথ্য জানতে বইপত্র, ইন্টারনেট, গবেষণা প্রভৃতির সহায়তা নেওয়া যায় ।
তথ্য সংগ্রহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার হচ্ছে সাক্ষাতকার। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাতকার গ্রহণের মাধ্যমে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। ফলোআপ নিউজ বা পরবর্তী সংবাদ গল্প ডেপথ্রি পোর্টিং এর একটি অংশ। যতক্ষণ পর্যন্ত সেই ঘটনাটির গুরুত্ব শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত উক্ত বিষয় নিয়ে রিপোর্ট হতে পারে।

ডেপথ্ রিপোর্টিং 

সাধারণত ডেপথ্ রিপোর্টিং দুই ধরণের।

১. ব্যাখ্যামূলক রিপোর্টিং
২. অনুসন্ধানমূলক রিপোর্টিং


এ দু ধরণের রিপোর্টিং যে কোনো বিষয়েই হতে পারে।যেমন- রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ক্রীড়া প্রভৃতি।

ব্যাখ্যামূলক রিপোর্টিংয়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি বিষয়কে পটভূমির আলোকে ব্যাখ্যার সাহায্যে পরিষ্কারভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরা এবং দিকনির্দেশ করা। অপরদিকে অনুসন্ধান মূলক রিপোর্টিংয়ের উদ্দেশ্য হল কোন বিষয় বা তথ্য রহস্যাবৃত থাকে তবে তাকে উদ্ঘাটন করা।


 লেখক : মোঃ সাইফুল ইসলাম
৪র্থ বর্ষ (২১ তম ব্যাচ)
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*