গুণগত গবেষণা পদ্ধতির বিভিন্ন ধরন

মাস্তুরা মীম/মো: সাইফুল ইসলাম/ অংকন চক্রবর্তী


গুণগত গবেষণা পদ্ধতির বিভিন্ন ধরন :



গুণগত গবেষণা হল তথ্য সংগ্রহণের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি। এই ধরনের গবেষণায় অর্থ ঠিকা, সংজ্ঞা , বৈশিষ্ট্য রূপক প্রতীক, এবং জিনিসগুলোর বর্ণনা বুঝায় যা গণনা বা পরিমাপের জন্য নয়।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একটি দোকান পরিদর্শনের ক্ষেত্রে পুরুষের সংখ্যা বেশি। কেন পুরুষের সংখ্যা বেশি এবং মহিলাদের কম। তার দিকে খেয়াল রেখে প্রশ্নের উত্তর খোজার জন্য শপিং মলের বিভিন্ন দোকানে মহিলাদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানালো সেই দোকানে তাদের পণ্য সামগ্রী কম থাজায় তাদের পণ্য সামগ্রী কম থাকায় তাদের পরিদর্শনের পরিসংখ্যানটাও কম। অতএব গুণগত গবেষণা পদ্ধতি গুলো তাদের প্রতিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে উত্তর দাতাদের গভীরতম এবং আরো অনুসন্ধান এবং প্রশ্ন করার অনুমিত দেয়। যেখানে সাক্ষাতকার /গবেষক তাদের প্রেরণা এবং অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করে।

গুণগত গবেষণা র বিভিন্ন ধরন রয়েছে। তা হল – 



1. In depth Interview
2. Focus group discussion
3. Ethnographic research
4. Contest analysis
5. Case study
6. Field Observation 


Know More….

বেষণা কী? সামাজিক গবেষণার ধাপসমূহ বর্ণনা কর



1. In Depth Interview(গভীরতম সাক্ষাতকার)

গভীরতার সাথে সাক্ষাতকার পরিচালনা করা গুণগত গবেষণার সবচেয়ে সাধারণ একটি পদ্ধতি। এটি একটি ব্যক্তিগত সাক্ষাতকার

যা এক এক সময়ে এক এক প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তির সাথে করা হয়। এটি একরি বিশুদ্ধ কথোপকথন পদ্ধতি যেখান প্রতিক্রিয়া জানার বিস্তারিত সুযোগ আছে।
এই পদ্ধতির সবচেয়ে সুবিধা দিক হলো লোকেরা কি বিশ্বাস করে এবং তাদের প্রেরণা কী তা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করার একটি দুর্দান্ত সুযোগ রয়েছে। যদি গবেষক সঠিক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার ক্ষেত্রে তিনি অর্থ পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
যদি তাদের আরও তথৃযের প্রয়োজন হয় হয়, সে ক্ষেত্রে গবেষকরা এধরনের ফলোআপ প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করবেন যা তাদের আরও তথ্য সংগ্রহণ করতে সহযোগীতা করবে।
এ ধরনের সাক্ষাতকার মুখোমুখি বা ফোনেও হতে পারে যা আধা ঘন্টা বা দুই ঘন্টাও সময় নিবে পারে। এ পদ্ধতি তে মুখোমুখি কথোপকথন বেশী ফলপ্রসূ কারণ এতে করে উত্তর দাতাদের শরীরের বাচনভঙ্গিতে এবং প্রতিক্রিয়া গুলো মিলে কিনা সরাসরি দেখা যায়।




2. Focus Group Discussion

গবেষণা পদ্ধতির প্রধান হাতিয়ার হল পড়াশোনা বা গভীরভাবে একটা বিষয়ে পর্যবেক্ষণ। কিন্তু পড়াশোনার মাধ্যমে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায় না। তাই পড়াললেখার পাশাপাশি গবেষকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। বিশেষ করে সমাজবিজ্ঞান গবেষণায় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার প্রয়োজনীয়তা অধিক। এই তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের একটি কার্যকর পদ্ধতি হল ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন।

ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন হল একটি বিষয়ে মানুষের ব্যবহার ও মনোভাব সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার একটি কৌশল। ৬-১২ জন একি বয়স, বৈশিষ্ট বা শ্রেণির মানুষকে একস্থানে রেখে কোন বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। একজন মোডারেট থাকে এবং তার সাথে একজন সহযোগীও থাকতে পারে। 


মোডারেটের তত্বাবধানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয় এবং এ প্রশ্নের উপর তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

গুণগত গবেষণা
 টার্গেট অডিয়েন্সের উপর শুধু নির্দিষ্ট বিষয়ের উপরই আলোচনা করা হয়। মোডারেটের সহকারী অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা কি মতামত দিচ্ছেন তা নোট নেন অথবা রেকর্ড করে রাখেন।


 এ রকম আলোচনায় অডিয়েন্সকে এমন প্রশ্ন করা হয় না যা হ্যাঁ অথবা না দিয়ে দেওয়া যায়। একটি বিষয়ে এমনভাবে প্রশ্ন করা হয় যাতে তারা এ সম্পর্কে তাদের মনোভাব ব্যক্ত করতে পারে। 

এখানে যে তথ্য গুলো পাওয়া যায় তা গুণগত বা কোয়ালিটিটিভ তথ্য । সংখ্যা বাচক তথ্য পেতে গবেষক কে জরিপ চালাতে হয়।

Krueger and Casey চারটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন। 


১. 
ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন দ্বারা গবেষণায় মানুষকে যুক্ত করা হয়।

২. ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে সম শ্রেণি বা সম বয়সের অথবা কোন দিকে সাদৃশ্য আছে এমন কিছু লোককে একস্থানে আনা হয়। যেমন – ১৮-৩৪ বছর বয়সী যুবক যারা নিয়মিত এফএম রেডিও শোনে তাদের আলোচনায় আনা যায়।
৩.এখানে গুণগত তথ্য পাওয়া যায়। এ তথ্য গুলো  একটি বিষয়ে একি বৈশিষ্ট্যের মানুষের মনোভাব সম্পর্কে ধারণা পেতে সহায়তা করে। এ রূপ আলোচনা থেকে এমনও অনেক মতামত উঠে আসতে পারে যা মোডারেট আশা করেন নি। 
৪.ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করা হবে তা আগেই ঠিক করা থাকে। আর প্রশ্ন গুলোর কাঠামো গবেষণায় ব্যবহারের জন্য সাজানো হয়। তবে যদি অংশগ্রহণকারীরা আলোচনার সাথে প্রাসঙ্গিক আরো তথ্য দেয় তবে মোডারেট চায়লেই পূর্বনির্ধারিত কাঠামো থেকে বের হয়েও ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন করতে পারেন।

 
 
 

 

3.Ethnographic Research(জাতিগত গবেষণা) :

জাতিগত গবেষণা হলো সবচেয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের পদ্ধতিতে স্বাভাবিক ঘটমান পরিবেশের সাথে মানুষের গবেষণা করে থাকে। এই পদ্ধতি তে গবেষকদের লক্ষ্যযুক্ত দর্শকদের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে হবে যা কোনও সংস্থার কাছ থেকে যে কোন শহরে বা কোনও দূরবর্তী অবস্থানে হতে পারে। । এখানে তথ্য সংগ্রহ করার সময় ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা একটি সমস্যা হতে পারে।
এই গবেষণা নকশা ঐ পরিবেশে সংগঠিত সংস্কৃতি, চ্যালেঞ্জ, প্রেরণা সম্মন্ধে জানতে পারে। সাক্ষাতকার ও পর্যালোচনার পরিবর্তে প্রথমে প্রাকৃতিক বিষয়গুলো উপযোগী করা উচিত।
গবেষণার এই পদ্ধতি টি কয়েকদিন থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। কারণ এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং সেই ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করে। এটি একটি চ্যালেঞ্জিং এবং সময়সাপেক্ষ পদ্ধতি। এবং বিশ্লেষণকারীর দক্ষতার উপর নির্ভর করে কেবলমাত্র বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম।


4. Content Analysis(আধেয় বিশ্লেষণ )
বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ একটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত গুণগত গবেষণা কৌশল। একক পদ্ধতির পরিবর্তে সামগ্রিক দিকগুলো বিশ্লেষণের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিতে তিনটি পন্থা অবলম্বন করা হয়। তা প্রচলিত, নির্দেশিত ও সংক্ষেপ নিয়ম
এই তিনটি পন্থা পাঠ্য তথ্যের বিষয়বস্তুর থেকে অর্থ ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত হয় এবং তাই প্রকৃতিগত দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে। পন্থা গুলির মধ্যে প্রধান পার্থক্য কোডিং স্কিম, কোডের উৎস্য এবং বিশ্বাসযোগ্যতার হুমকি। প্রচলিত বিষয়বস্তু বিশ্লেষণে কোডিং বিভাগগুলি সরাসরি পাঠ্য তথ্য থেকে প্রাপ্ত হয়। একটি নির্দেশিত পদ্ধতির সাথে। প্রাথমিক তত্ত্ব গুলি র জন্য নির্দেশনা হিসাবে একটি তত্ত্ব বা প্রাসঙ্গিক গবেষণা ফলাফলের সাথে বিশ্লেষণ করে।


5. Case study (কেস স্টাডি)

কেস স্টাডি বলতে এমন একটি সমীক্ষা কে বোঝায় যা প্রাপ্ত ফলাফলের পিছনের গল্পকে বিশ্লেষণ ও সমন্বয় করে সকলের নিকট উপস্থাপন করে।
এটি একটি সমাজ গবেষণা ও অনুসন্ধানমূলক কৌশল যে খানে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোন গোষ্ঠীকে একক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কেস স্টাডির জন্য তিনটি ধাপ অনু সরণ করে কাজ করা হয় । ধাপ গুলো হলো- সমস্যা চিহ্নিত করা,তথ্য সংগ্রহ এবং ফলাফল প্রকাশ।
কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কেস স্টাডি করতে গেলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে হয়। এরপর সাক্ষাতকার গ্রহণ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। এবং শেষে সংগ্রহীত তথ্য বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে বর্ণনাত্মক ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
যেমন- একজন ব্যক্তির উপর কেস স্টাডি করতে হলে ব্যক্তির নাম, ব্যক্তি কোথায় থাকে, ব্যক্তির যোগ্যতা, পেশা প্রভৃতি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ফলাফল তৈরির পর তা বিচার-বিশ্লেষণ করে উপস্থাপন করতে হবে।
কেস স্টাডির মাধ্যমে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অতীত জানা যায় এবং উক্ত বিষয়ে ভাল ধারণা নেওয়া যায়। তাছাড়া কেস স্টাডির মাধ্যমে পরবর্তী গবেষণা ক্ষেত্রও তৈরি করা যায়। 
অনেক সময় গবেষকদের বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের প্রয়োজন হয়। কেস স্টাডি পদ্ধতি তে অনেক সময় গবেষকের প্রত্যাশার চেয়েও অধিক তথ্য পাওয়া যায়।। 



6. Field Observation  (ফিল্ড অবজারভেশন)

তথ্য সংগ্রহ এবং হাইপোথিসিস দাঁড় করানোর কন্য ফিল্ড অবজারভেশন না মাঠ পর্যবেক্ষণ খুবই কার্যকরী একটি পদ্ধতি। অন্যান্য গুণগত পদ্ধতি ট মতো এটিও অধিক ব্যাখ্যামূলক। এবং এখানে পরিমাপের বিষয়টি কম গুরুত্বপূর্ণ। 
চিত্রে আমরা দেখতে পাই, মাঠ পর্যবেক্ষণের বিষয়টি কে প্রধাণত দুইটি শ্রেণি তে ভাগ করা হয়েছে। যথা –
১. এখানে গবেষকের উপস্থিতিতে সচেতন অবস্থায় আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
২. পর্যবেক্ষণের বিষয়টি গোপন থাকে।
চিত্র ১ অংশে :
এ অংশটিকে overt observation বা প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ বলে। এ অবস্থায় গবেষক কখন গবেষণা শিরু করবেন তা জানিয়ে দেন। যারা গবেষণায় অংশগ্রহণ করছে তারাও এ বিষয়ে সচেতন থাকে যে কখন তাদের গবেষণার জন্য পর্যবেক্ষণ করা হবে।
চিত্র ২ অংশে
এ অংশকে overt participation বা প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ বলে। এ পরিস্থিতি তে অংশগ্রহণকারীরা গবেষককে প্রত্যক্ষ ভাবে দেংতে পায়। তবে ১ অংশের চেয়ে এখানে ভিন্ন তা হল, গবেষক অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দের সাথে পর্যবেক্ষণের মধ্যে মিলিত হন। অর্থাৎ গবেষক অংশগ্রহণকারী দের কাতারে চলে যান।
চিত্র ৩ এ
এ অবস্থায় গবেষকদের ভূমিকা নির্দিষ্ট থাকো। কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের আচরণ যে গবেষণার জন্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এ ব্যাপারে তারা সচেতন থাকে না।
চিত্র ৪ এ
গবেষক ও অংশগ্রহণকারীরা সকলেই একসাথে পর্যবেক্ষণ মধ্যে থাকে । কিন্তু গবেষক অংশগ্রহণকারীদের নিজেকে গবেষক হিসেবে তাদের পরিচিত করা হয় না।





লেখক : শিক্ষার্থী
৪র্থ বর্ষ( ২১ তম ব্যাচ )
যোগাযোগওসাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*