গবেষণায় নৈতিকতা র চর্চা গুরুত্বপূর্ণ কেন? নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বসমূহ কী কী

হুমায়ারা জান্নাত:

গবেষণায় নৈতিকতা র চর্চা গুরুত্বপূর্ণ কেন?নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বসমূহ কী কী?নৈতিকতার কোন সূত্রগুলো গবেষকরা সচরাচর অনুসরণ করে থাকেন?



উপস্থাপনা:
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যখন আমরা কোন সমস্যা নিয়ে গবেষণা করি তখন নৈতিকতার বিষয়টি খেয়াল রাখা দরকার।সমাজের জন্য কোন আচরণ যথাযথ আর কোন্ আচরণ যথাযথ নয় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়।গবেষক প্রশ্নপত্রসহ উত্তরদাতার নিকট যান।উত্তরদাতা তার দৈনন্দিন রুটিন ভেঙ্গে তাতে অংশগ্রহণ করেন।প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে উত্তরদাতার অনেক গোপন তথ্য গবেষক জেনে যান,যার অনেক তথ্যই তার নিকটাত্মীয়দের জানা থাকে না।তাই স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবণে যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে গবেষককে খেয়াল রাখতে হয়।

গবেষণায় নৈতিকতা

নৈতিকতা: 


নৈতিকতার ইংরেজী প্রতিশব্দ হল Ethics.নৈতিকতা হল কোনটা সঠিক ও কোনটা ভুল তা খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী ঠিক কাজটি করা।নৈতিকতার বিস্তৃতি আইনের চেয়ে ব্যপক।এমন অনেক বিষয় আছে যা আইনে নেই কিন্তু নীতি বিরুদ্ধ। যেমন-ক্লাসে শেষে ঢুকে বিরক্ত করা,বড়দের সামনে সিগারেট খাওয়া ইত্যাদি। নৈতিকতা সংস্কৃতির সাথে জড়িত।একেক সংস্কৃতিতে নৈতিকতা একেক রকম।সহজ ভাষায় নৈতিকতা হলো একটি সমাজ ও সংস্কৃতিতে কোন কাজটি করা উচিত আর কোনটি অনুচিত তা খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী কাজ করা। আর গবেষণায় নৈতিকতা হলো কোনভাবেই যেন উত্তরদাতার গোপনীয়তা ক্ষুন্ন না হয়।


নৈতিকতা কেন জরুরী: 

নৈতিকতা মানে হল সঠিক বা যথাযথ আচরণ।নৈতিক হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম কারণটি হল,নিজের জানামতে সবার সাথে নৈতিক ব্যবহার করা।তা না হলে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর উপর তা খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।গবেষণার স্বার্থে কোন ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য নেয়া যেতে পারে।তবে তা কেবল জ্ঞান সৃষ্টি ও ভবিষ্যত বিনির্মানের কাজেই ব্যবহার করা উচিত।কোনভাবেই যেন ব্যক্তির গোপনীয়তা ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে সতর্কদৃষ্টি থাকতে হবে।এবং
নিশ্চিত করতে হবে কোনভাবেই যেন ব্যক্তির ক্ষতি না হয়। ক্ষতি হলে ব্যক্তির বিশ্বাস ভেঙ্গে যাবে। আর কোন তথ্য কখনও দিবে না।
এর ফলশ্রুতি তে  ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নয়। সমগ্র মানুষের মধ্যেই এক ধরণের অবিশ্বাস তৈরি হবে। তারা কোন গবেষণার কাজে অংশ নিবে না। ফলে ভবিষ্যৎ গবেষণা কার্যক্রম ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Know More…

প্রশ্নপত্র তৈরি র ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়


নৈতিকতার নীতিমালা


সাধারণ ভাবে গবেষণায় সার্বজনীন বলে কোন কথা নেই। তবে কিছু নীতিমালা আছে। 


1. Non maleficence
সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হচ্ছে ইচ্ছেকৃতভাবে কারও কোন ক্ষতি করা যাবে না। উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাবে, কারও কোন ক্ষতি করার বিষয়টি বারণ করা হয়েছে।


2.Beneficial (মঙ্গল সাধন)
যাদের নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে তার ইচ্ছা পূরণ করে দিতে হবে। যেমন – গবেষণারর স্বার্থে কাউকে কোন টাকা দিলে যদি সে শারীরিক ভাবে উপকৃত হয়, তবে তাকে এ লাভ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।


3.Justice (ন্যায়বিচার)
ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। যেমন – কোন চোর গবেষকের কাজে ৫০টি গরু চুরির কথা স্বীকার করে তবে তা গোপণ রাখতে হবে। অর্থাৎ benefit them no harm tham
গবেষণার প্রতিটি ব্যক্তির সাথে সঠিক আচরণ করতে হবে। 
wimmer and dominik বলেন, accept and respect a person for what he or she is, and do not criticize the person for what he or she is not.


4. Caution(সর্তকতা)

 তথ্য বিশ্লেষণের সময় যথেষ্ট পরিমাণ সতর্ক থাকতে হবে। যেন অসাবধানতার কারণে ভুল না হয়।



আরও কিছু নীতিমালা


১. যাদের উপর গবেষণা করা হবে তারা যেন বিষয়টি জানে। তাদের সম্মিত ছাড়া গবেষণা না করা।
২. গবেষণায় অংশগ্রহণের জন্য কাউকে বাধ্য করা যাবে না। 
৩. 
 অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে গবেষণার উদ্দেশ্য তথা প্রকৃতি সত্য লুকানো যাবে না। গবেষণা দিয়ে কি হবে তা ভালভাবে জানাতে হবে। মিথ্যা বলা যাবে না।

৪. অংশগ্রহণকারীদের এমন কিছু করা যাবে না যা তাদের জন্য অসম্মানজনক
৫. অংশগ্রহণকারীদের যেন স্বেচ্ছায় গবেষণায় অংশগ্রহণ করে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. অংশগ্রহণকারীদের শারীরিক ও মানসিক চাপ না দেওয়া
৭. অংশগ্রহণকারীদের গোপনীয়তা বজায় রাখা



wimner and dominick গবেষণায় অন্তত তিন ধরণের নিয়ম নৈতিকতার কথা বলেছেন।


1. Autonomy or Self Determination
গবেষক কোন বিষয়ে ব্যক্তিকে বাধ্য করতে পারবে না। ব্যক্তি স্বতঃ প্রাণদিত হয়ে কাজ করবে। গবেষক ব্যক্তির অধিকার, মূল্যবোধ, সিদ্ধান্ত, সংস্কৃতির বিষয়ে প্রাধাণ্য দিবেন।
যেমন – যদি কোন গবেষক কোন আচরণ করতে চান তাকে অবশ্যই ভাবতে হবে তিনি নিজের ব্যাপারে , সবার জন্য একই আচরণ প্রয়োগ করবেন কিনা। অর্থ্যাৎ, এমন আচরণ ই করা উচিত, তিনি যেমনটি সবার কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন।
এক্ষেত্রে কান্টের চিন্তাকে “গোল্ডেন রুল” বা সোনালি নিয়ম হিসেবে মানা হয়। তা হল do unto others as you would have them do unto you



2.Balancing or Technological theory(সমীকরণ এবং প্রযুক্তিগত তত্ত্ব)


এ তত্ত্ব টি উঠে এসেছে মূলত দার্শনিক জন স্টুয়ার্ড মিলের প্রয়োগবাদীতার তত্ত্ব থেকে।
তার মতে, ব্যবহার যোগ্য ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে নৈতিকতার বিষয়টি বিবেচ্য হবে। চিন্তা করতে হবে কোনটি লাভ কোনটা ক্ষতি। সর্বোচ্চ ভালর জন্য সর্বনিম্ন ক্ষতির বিষয়টি ছাড় দেয়া যাবে। বিবেচনা করতে হবে, আমি যে প্রচারণার আশ্রয় নিচ্ছি তার লাভ বা ক্ষতি কেমন।
যদি দেখা যায়, কিছু মাত্রায় প্রচারণা না করলে  ফল আসবে না সেক্ষেত্রে তা করা যাবে।



3.Relativistic Theory(আপেক্ষিক )
নৈতিকতার এই তত্ত্বে এসে বলা হচ্ছে, নৈতিকতার আসলে কোন আদর্শ রূপ নেই। সার্বজনীন বলে কোন কথা নেই। আমার কাছে যা নৈতিক অন্যজনের কাছে তা নৈতিক নাও মনে হতে পারে। অর্থাৎ ব্যক্তি ভেদে নৈতিকতা ভিন্ন হয়। কোন বিষয় বিবেচনার সময় দেখতে হবে তা আমাদের পরিবেশ ও সংস্কৃতিতে গ্রহণযোগ্য কিনা।




লেখক : শিক্ষার্থী
৪র্থ বর্ষ( ২১ তম ব্যাচ )
যোগাযোগওসাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*